আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, ঋতব্রত ব্যানার্জিই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। অর্থাৎ মমতার তৃণমূলের মামলা গুরুত্ব পেল না আদালতে৷ ঠিক একই দিনে, কয়েকঘণ্টা পরে বিরাট দাবি করেছেন 'মমতার সৈনিক' কুণাল ঘোষ। তিনি যা বললেন, তাতে কার্যত প্রশ্ন উঠে গেল ঋতব্রত ব্যানার্জির 'সংখ্যাগরিষ্ঠ' বিধায়কদের নিয়েই। বৃহস্পতিবার, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, অশোক দেব, মদন মিত্র-সহ কয়েকজন বিধায়ক একাধিক ইস্যু নিয়ে দেখা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। তবে, চুপ থাকেননি ঋতব্রতও। নিজেদের পক্ষে 'সংখ্যাগরিষ্ঠতার' দাবি করার পাশাপাশি তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিও করে বসলেন তিনি।
এদিনই তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠি লিখেছেন অরূপ বিশ্বাস। সেই চিঠির প্রসঙ্গ উঠতেই বিস্ফোরক দাবি করেছেন ঋতব্রত। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, ''অরূপ বিশ্বাসের চিঠির সারবত্তা রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টে যে চুরির টাকা ঢোকেনি, কাটমানির টাকা নেই তার গ্যারান্টি কে দেবে? তাই অরূপ বিশ্বাস চিঠি দিয়ে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের যে আর্জি জানিয়েছেন, তা আমি সমর্থন জানাই।''
সূত্রের খবর, গত ১২ জুন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখার ম্যানেজারকে চিঠি লিখে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট 'সিজ' করার আবেদন জানিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। এবার তৃণমূলের কয়েকশো কোটি টাকা তহবিল নিয়েও নতুন করে সঙ্কট তৈরি হল বলেই মনে করছেন অনেকেই। জানা গেছে, ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনিই দলের কোষাধ্যক্ষ। নির্বাচনের পরেই দলের অন্দরে বিক্ষোভ চলছে। বহু সাংসদ, বিধায়ক বিদ্রোহ করেই দলে ছেড়েছেন। অশান্তিও থামার নাম নেই। এই আবহে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিরতার আবহে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কে পরিচালনা করবেন, তা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। অরূপের আশঙ্কা, এই অশান্তির আবহে দলের অফিসে রাখা এবং তাঁর স্বাক্ষর করে রাখা ব্যাঙ্ক চেকগুলির অপব্যবহার হতে পারে।
চিঠিতে তিনি এও লিখেছেন, 'দলের বহু নির্বাচিত প্রতিনিধি, ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এবং ৬০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন, হয় দলত্যাগ করেছেন নতুবা প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। যার ফলে দলের কর্তৃত্ব ও সম্পদ দিয়ে ব্যাপক বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।' ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে অরূপ আরও জানিয়েছেন, এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে দলের সম্পদ ও দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতেই, লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। দলের টাকা নয়ছয় হলে আরও সমস্যা বাড়তে পারে। যতদিন দলের অভ্যন্তরে অশান্তি না কমছে, ততদিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট 'সিজ' করা হোক। এবার সেই বিষয়েও ঋতব্রত অরূপের পাশে দাঁড়িয়েই জানিয়ে দিলেন, ফ্রিজ করা হোক মমতার দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।