• আগুনে ধ্বংসের তিন বছরের মধ্যেই প্রত্যাবর্তন, পুরনো রূপে ফিরছে জলদাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলং বন বাংলো
    News18 বাংলা | ১৯ জুন ২০২৬
  • উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান দখল করে থাকা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ঐতিহ্যবাহী হলং বন বাংলো আবারও ফিরতে চলেছে তার পুরনো রূপে। বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রায় তিন বছরের মধ্যেই নতুন করে তৈরি হয়ে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে এই জনপ্রিয় বন বাংলো। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হবে।

    সম্প্রতি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মাদারিহাট এনআইসিতে একটি সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ নির্মীয়মাণ হলং বন বাংলোর কাজ পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ”হলং বনবাংলোকে আগের মতো করেই তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণকাজ শেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

    বনমন্ত্রী আরও জানান, বনাঞ্চলে পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে প্রবেশ টিকিট থেকে শুরু করে সাফারি বুকিং পর্যন্ত সমস্ত পরিষেবাকে ডিজিটাল করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়, এই জেলায় মূলত চা-বাগান ও পর্যটনই অর্থনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র। তাই এই দুই ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়েই জেলার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত ৯টার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়ার বিখ্যাত হলং বন বাংলো। তদন্তে জানা যায়, আট কামরার এই বাংলোর তৃতীয় তলার ৩ নম্বর ঘরে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। এরপর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সম্পূর্ণ বাংলোটি ধ্বংস হয়ে যায়।

    ১৯৬৭ সালে নির্মিত কাঠের এই বন বাংলোকে অনেকেই রাজ্যের পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলে অভিহিত করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে বাংলোটিকে আগের কাঠের আদলেই পুনর্নির্মাণের দাবি উঠেছিল। অবশেষে সেই দাবিকেই গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে হলং বন বাংলো। জানা গিয়েছে, তিনতলা এই বন বাংলো নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। প্রথমে কংক্রিটের কাঠামো তৈরি করা হবে, তারপর শাল, সেগুন ও পাইন কাঠ দিয়ে বাংলোর ভিতর ও বাইরের অংশ ঢেকে দেওয়া হবে। ফলে বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকবে না যে এটি কংক্রিটের নির্মাণ।

    বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলোর অভ্যন্তরে শাল কাঠের ফ্রেমের উপর পাইন কাঠের আবরণ থাকবে, আর বাইরের অংশে শাল কাঠের ফ্রেমের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে সেগুন কাঠ। বাংলোর ভিতর ও বাইরে সম্পূর্ণ উডেন ক্ল্যাডিং করা হবে। কাঠ সরবরাহের দায়িত্বও বন দফতরের উপরই থাকবে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে যাতে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিশেষ অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবেগ ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণ হলং বন বাংলো আবারও ফিরে আসতে চলেছে তার চেনা রূপে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)