• ৩৫% ভর্তুকির সুবিধায় ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় পদক্ষেপ জেলায়
    News18 বাংলা | ১৯ জুন ২০২৬
  • পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং নারী ক্ষমতায়নের ওপর প্রশাসন বিশেষ জোর দিয়েছে। নারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে উদ্যান পালন দফতর ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলাজুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে ক্ষুদ্র উদ্যোগে যুক্ত মহিলাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০ জন মহিলা আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ জনের ঋণ অনুমোদন হয়েছে। আর তাতেই গুরুত্ব পাচ্ছে জেলায় জুড়ে নারীদের স্বনির্ভর করে তোলা ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা।

    ‘পিএম ফরমালাইজেশন অফ মাইক্রো ফুড প্রসেসিং এন্টারপ্রাইজ’ (PMFME) প্রকল্প। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যুক্ত ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রকল্প গড়ে তোলা কিংবা পুরনো উদ্যোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয়ের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকির সুবিধা মিলছে। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য বীজ ও মূলধনের ব্যবস্থাও রয়েছে। মূলত গ্রামের মহিলারা ছোট ছোট ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে তার জন্য এই প্রকল্প। তমলুক ব্লকের জনকল্যাণ শিবিরে চার জন উপভোক্তার হাতে ঋণ অনুমোদনপত্র তুলে দেন তমলুকের বিডিও দেবাশীষ দত্ত।

    এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “ভর্তুকি যুক্ত ঋণের জন্য আবেদনকারী মহিলাদের মধ্যে প্রায় দেড়শ জন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন পেয়েছেন। এর ফলে তাঁরা নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন। এর ফলে মহিলারা একদিক থেকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হবে অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতির হাল ফিরবে। সরকারের মূল লক্ষ্য নারীদের আর্থিক সাম্যতা দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন করা। সেদিক থেকে এই প্রকল্প মহিলাদের জন্য অনেকটাই উপযোগী।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর তমলুকে মহিলাদের হাতে এই প্রকল্পের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

    এই প্রকল্পে ভর্তুকি যুক্ত ঋণ পেয়ে খুশি গ্রামের সাধারণ মহিলারা। তমলুক ব্লকে যাদের এই প্রকল্পের ভর্তুকি যুক্ত ঋণের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনুপমা আদক এবং শিলা রানী দাস। দুই উপভোক্তাই জানিয়েছেন, এতদিন ছোট পরিসরে বড়ি তৈরির ব্যবসা চালালেও মূলধনের অভাবে তা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। সরকারি ভর্তুকিযুক্ত ঋণের জন্য আবেদন করার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়ায় তাঁরা উৎসাহিত। তাঁদের আশা, এই সহায়তার ফলে ব্যবসার পরিধি বাড়বে এবং আরও স্বনির্ভর হওয়া যাবে। সব মিলিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নারীদের ক্ষমতায়নের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)