• রাস্তার ধারে অবৈধ নির্মাণ সরানোর নির্দেশ, বিষ্ণুপুরে ‘বুলডোজার’ আতঙ্ক
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরে রাস্তার ধারে অবৈধ নির্মাণ সরানোর নির্দেশ দিতেই শহরে ব্যবসায়ীদের একাংশের মনে ‘বুলডোজার’ আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার মহকুমা প্রশাসনের তরফে অবৈধ নির্মাণ সরানোর ব্যাপারে শহরে মাইকিং করা হয়। তাতে বলা হয়, শহরের বিভিন্ন বাজারে অস্থায়ী ছাউনি, রাস্তার ধারে নিকাশি নালার উপর থাকা দোকান অবিলম্বে সরাতে হবে। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সতর্কবার্তা শুনে অবশ্য এদিন বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি দোকানের সামনে থাকা অস্থায়ী ছাউনি ব্যবসায়ীরা নিজেরাই সরিয়ে নেন। তবে এতে রাস্তার ধারে ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের মনে কিছুটা হলেও ভয় ধরেছে। গোটা রাজ্যে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চলছে। তাহলে কি এবার বিষ্ণুপুরের পালা? যদিও এব্যাপারে মহকুমা প্রশাসন ব্যবসায়ীদের কিছুটা সময় দেওয়ার পক্ষপাতি। তবে অবৈধ নির্মাণ সরাতে হবে, এটা নিশ্চিত। 

    বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, শহরের প্রতিটি রাস্তার ধারে অবৈধ নির্মাণ সরানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে মাইকিং করে সতর্ক করাও হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও রাস্তায় নেমে ব্যবসায়ীদের অবৈধ নির্মাণ সরানোর জন্য অনুরোধ করবেন। রাস্তা পরিষ্কার রাখতেই হবে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লরাজাদের রাজধানী বিষ্ণুপুর প্রাচীন শহর। তাই পরিকল্পনা করে বসতি স্থাপন হয়নি। রাস্তার দু’ধারে জবরদখল থাকায় নিত্য যানজট লেগেই রয়েছে। বিশেষ করে শহরের গোপালগঞ্জ থেকে বোলতলা, রবীন্দ্র স্ট্যাচু মোড় থেকে চকবাজার হয়ে পোঁকাবাঁধপাড় সর্বত্র যানজট সৃষ্টি হয়। তার জেরে শহরের ভিতরে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরে শহরে রাস্তার ধারে জবরদখল হটানোর ব্যাপারে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। তবে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই মতো রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার চলছে। বিষ্ণুপুরেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন বাজারে মাইকিং করা হয়। তাতে রাস্তার ধারে থাকা অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আর এতেই ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের মনে বুলডোজার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের নিজস্ব দোকানঘর থাকলেও রাস্তার ধারে নিকাশি নালার উপর স্ল্যাব বসিয়ে ব্যবসার জিনিসপত্র রেখে দিচ্ছেন। তাতে ফুটপাত জবরদখল হওয়ায় রাস্তায় যানজট হচ্ছে।

    বিষ্ণুপুরের রসিকগঞ্জের ফুলব্যবসায়ী অতনু মণ্ডল বলেন, সরকার অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। খুব ভালো কথা। পুরসভার পক্ষ থেকে আমাকে যে স্টলটি দেওয়া হয়েছে, তার দরজার সামনেই নিকাশি নালা রয়েছে। দোকানে ঢুকতে গেলে নালার উপর দিয়ে যেতে হয়। সেজন্য নালার উপর স্ল্যাব বসানো হয়েছে। তাছাড়া মাত্র ছ’ফুট বাই চারফুটের স্টলে জিনিসপত্র রাখা যায় না। সেই জন্য ড্রেনের উপরে সামান্য অংশ ছাউনি দেওয়া হয়েছে। তা সরাতে হলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে। -নিজস্ব চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)