• আলুর বাজার নিম্নমুখী, বর্ধমানে চিন্তায় ব্যবসায়ী থেকে কৃষকরা, ৫০ কেজি আলুর বণ্ড বিকোচ্ছে ১৬০ টাকায়
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কালনা: রাজ্যে পালাবদলের পরেও চিন্তা কমেনি আলুচাষিদের। কারণ আলুর বাজারে ব্যাপক ধস। পরিস্থিতি যা তাতে লোকশানের মুখে আলু চাষি থেকে ব্যবসায়ীরা। হিমঘরে পাঠানোর সময় ৫০ কেজি আলুর গড় দাম ছিল ২৫০ টাকা। সেই আলুর দামই বর্তমানে বণ্ড (৫০ কেজি প্যাকেট) পিছু দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬০-১৭০ টাকায়। পালাবদলের পর আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হবে আশা করলেও দাম নিম্নমুখী হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়িদের উৎকণ্ঠা কিন্তু কমেনি। ব্যবসায়ী থেকে আলু চাষিরা চাইছেন সরকার পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি ভাড়ায় ভর্তুকি দিয়ে ভিনরাজ্য ও বিদেশে আলু পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।

    পূর্ব বর্ধমান জেলায় হিমঘরের সংখ্যা ১০৫টি । গত আলুর মরশুমে আলুর গড় দাম হিসাবে ২৫০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি) দর ছিল। প্রায় সাড়ে তিন কোটি আলুর প্যাকেট জেলার বিভিন্ন হিমঘরগুলিতে রাখা হয়। হিমঘরে আলু রাখা ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন আলু ব্যবসায়ীরা রয়েছেন, তেমনই বহু চাষিও ভালো দাম পাওয়ার আশায় নিজেদের উৎপন্ন আলু হিমঘরে রাখেন। মাসদুয়েক আগেও আলুর দাম খুচরো বাজারে (ডালা পাটি) ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ১০-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। পূর্বতন সরকার ভিনরাজ্যে ও বিদেশে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে লাগাম টানলেও রাজ্যে পালাবদলে বর্তমান সরকারের হাত ধরে লাগাম শিথিল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা এবার দাম বৃদ্ধির আশা করছেন। কিন্তু এক মাস কাটতে না কাটতে উলটো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এক মাস ধরে ২৫০ টাকার আলুর বণ্ড দু’শো টাকা থেকে নামতে নামতে ১৬০ টাকায় ঠেকেছে। যে দরে বিক্রি করলে বস্তা বা প্যাকেট পিছু লোকসান ১০০ টাকার বেশি। আগামী দিনে এই দাম আরও উঠবে না নামবে সে নিয়েই দোলাচলে রয়েছেন চাষি থেকে ব্যবসায়ীরা।

    কেন দাম নিম্নমুখী? ব্যবসায়ীদের কথায়, ভিনরাজ্যে অনেকাংশে আলুর চাহিদা কমেছে। বর্তমান সময়ে আলু ছাড়া অন্য সবজির দাম অনেকটাই কমের দিকে হওয়ায় এই সবজির ব্যবহারও কমেছে। 

    জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বকুল মণ্ডল বলেন, গত মরশুমে ব্যাপক আলুর ফলন হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে লাগাম টানায় বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় বেড়েছে আলুর চাষ। উত্তরপ্রদেশ থেকেও ওসব রাজ্যে ঢুকছে আলু। বর্তমান সরকার ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় আমরা খুশি। তবে, এবার  যাতায়াতের খরচ বেড়ে পাওয়ায় ভিনরাজ্যে আলু পাঠিয়ে লাভ করা যাচ্ছে না। 

    আলু চাষি আলতাফ মণ্ডল, অম্লান মালিকরা বলেন, ৫০টাকা পিস আলুর প্যাকেট কিনেছি। ধার দেনা করে চাষ করেছিলাম। কিছু আলু বিক্রি করে অল্প ধার দেনা মিটিয়েছিলাম। বাকি আলু হিমঘরে রেখেছিলাম দাম পাওয়ার আশায়। কিন্তু বর্তমানে আলুর দাম প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ১৬০ টাকা বণ্ডের (এক বস্তা) দাম চলছে। যা বেচলে ১০০ টাকার বেশি লোকসান। সরকারের  কাছে আবেদন, আলু চাষিদের পাশে দাঁড়ান। না হলে বহু চাষির ঘরে অন্ধকার নামবে।   
  • Link to this news (বর্তমান)