• প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই তারাপীঠে চলছে হোটেল ও লজ আটটি হোটেলকে বন্ধের নোটিস
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তারাপীঠের শতাধিক হোটেল ও লজ দমকল দপ্তরের অনুমতি, সরাই লাইসেন্স, খাদ্য সুরক্ষা এমনকী টিআরডিএর অনুমতি ছাড়াই চলছে। এতে সরকারি রাজস্ব আদায় মার যাওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছিল। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এই অনিয়মের কথা স্বীকার করা হলেও, প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। তবে শাসন ক্ষমতার বদল হতেই প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরহাটের মহকুমা শাসক নিয়ম লঙ্ঘনকারী আটটি হোটেলকে অবিলম্বে বন্ধ করার নোটিস দিয়েছেন। 

    তারাপীঠ মন্দিরকে কেন্দ্র করে গজিয়ে উঠেছে বহু লজ ও হোটেল। যার সংখ্যা প্রায় চারশো ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিয়ম বর্হিভূত ভাবে একটি লজের গা ঘেঁসে গড়ে উঠেছে আরেকটি লজ। গলির ভিতরেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য লজ ও হোটেল। যাতাযাতের রাস্তা এতটাই সংকীর্ণ যে দমকলের গাড়ি ঢোকা অসম্ভব। সব থেকে খারাপ অবস্থা চণ্ডীপুর মৌজার ভিআইপি রোড, এসবিআই ব্যাংকের সামনে, দ্বারকা নদের ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাগুলি। পুকুর, জলাশয় বুজিয়ে হোটেল লজ গড়ে ওঠায় আগুন লাগলে নেভানোর জল পাওয়া যাবে না। তার উপর হোটেলগুলিতে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থাও নেই। নেই সরাই লাইসেন্সও। কোনো কোনো হোটেলে আবার ফুড লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে চলছে রেস্টুর‌্যান্ট। দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো বালাই নেই। তৃণমূল আমলে এই নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও গা ছাড়া মনোভাব ছিল টিআরডিএ এবং প্রশাসনের। 

    রাজ্যে পালাবদলের পর গত ২৯ মে সদ্য নির্মিত একটি হোটেলের লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্তকুমার মাইতির সঙ্গে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহার বড়সড় সংঘাত ঘটে। বিধায়কের প্রশ্ন ছিল, যেখানে তারাপীঠে শ’য়ে শ’য়ে হোটেল সরাই লাইসেন্স ছাড়া রমরমিয়ে চলছে, সেখানে শুধুমাত্র একটি নতুন হোটেলের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি কেন? যা নিয়ে ব্যাপক হইচই হয়। এরপরই এদিন চণ্ডীপুর মৌজায় বেআইনিভাবে চলা আটটি হোটেল বন্ধ করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নোটিস দিল প্রশাসন। 

    মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর বলেন, এই হোটেলগুলিকে আগেও নোটিস দিয়ে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও বেআইনিভাবে চলছিল। আগে সেগুলিকেই নোটিস দিয়ে বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে।  এরপরও হোটেল বন্ধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন নিয়ে পুনরায় হোটেলগুলি চালু করতে পারবে। তিনি বলেন, আরও কিছু হোটেল ও রেস্টুর‌্যান্টকে বন্ধ করার জন্য নোটিস দেওয়া হবে। 

    সব মিলিয়ে তারাপীঠের মতো পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা আর বরদাস্ত করা হবে না, প্রশাসনের এই নোটিস তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত। তবে শত শত বেআইনি হোটেল ও রেস্টুর‌্যান্টের ভিড়ে এই আটটি হোটেলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কি যথেষ্ট, উঠছে প্রশ্ন। 
  • Link to this news (বর্তমান)