• পানাগড় শিল্পতালুকে কাজের দাবি, বিক্ষোভ
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মানকর:  পানাগড় শিল্পতালুকে কাজের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন জমিদাতা ও স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার তাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেমে অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের নিয়োগ করা হচ্ছে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এবার স্থানীয়দের কাজের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁকসা, গলসি ১ ও আউশগ্রাম ২  ব্লকের কোটা, পোন্ডালি, সোঁয়াই প্রভৃতি এলাকার আটশোর বেশি চাষির ১,৪৬৫ একর জমি নিয়ে ২০০৯-১০ সালে বাম সরকার পানাগড়ে শিল্পতালুক গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকার সেকাজ এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এখনও জমিদাতাদের একাংশের অভিযোগ, সেই সময় জমি দিলেও এখন কাজ মিলছে না। এদিন কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। কাজের জন্য দাবি তোলেন তাঁরা। বিক্ষুব্ধ সঞ্জয় মেটের অভিযোগ, স্থানীয়রা ঘরে বসে আছেন। চাষ করার মতো জমিও নেই। আমাদের জমি নেওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু কাজ দেওয়া হচ্ছে না। শিল্পতালুকের কোনো কারখানায় স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছেন না। তৃণমূলের আমলে টাকা নিয়ে বাইরে থেকে কাজে ঢোকানো হয়েছে। গৃহবধূ পরমা মেটে বলেন, আমাদের ছেলেদের কাজ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা হোক। 

    আরএক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, তৃণমূল আমলে শাসক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠরাই কারখানায় কাজ পেয়েছে। মোটা টাকার বিনিময়ে নেতারা কাজ দিতেন। তার মধ্যে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির এক নেতাও আছেন। দিনের পর দিন টাকা নিয়ে এলাকার কারখানাগুলিতে লোক ঢুকিয়েছেন। ওঁর হাতে ‘প্রণামী’ না দিলে কাজ মিলত না। এদিন বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কাঁকসা থানার পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা বাধে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ। এদিনের ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কংগ্রেস নেতা পূরব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, স্থানীয়দের কাজের দাবিতে আমরা ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার থাকা অবশ্যই দরকার। পাশাপাশি বিজেপি নেতা রমন শর্মার যুক্তি, তৃণমূল জমানায় স্থানীয়দের কাজের দাবিতে বহুবার সরব হয়েছি। এখন পালাবদল হয়েছে। এই সমস্যার সমাধান হবেই।
  • Link to this news (বর্তমান)