দলবদলু সুবিধাবাদীদের বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে না: অগ্নিমিত্রা
বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: তৃণমূলের বিদ্রোহীদের ‘সুবিধাবাদী’ বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেত্রী তথা পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। দলের সঙ্গে সেই ‘সুবিধাবাদী’ বা ‘ভালো তৃণমূলি’দের আদিখ্যেতা দেখে তিনি যে খানিক রুষ্ট, তা এতটুকু লুকাননি মন্ত্রী। বলেছেন, ‘খারাপ তো লাগছেই! তবে, বাংলার মানুষ ওঁদের আর বিশ্বাস করে না।’
পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের ডিগবাজি খাওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিজেপিতে ‘দরজা বন্ধ’ বলে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পরে তিনি ‘ভালো তৃণমূল’-এর তত্ত্ব সামনে আনেন। তারপরই বিধানসভা ও লোকসভায় তৈরি হয় ‘আসল তৃণমূলে’র ব্লক রাজনীতি। লোকসভায় নেতৃত্ব দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তবে, বিদ্রোহী সাংসদরা এই মুহূর্তে সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে এনসিপিআই নামে একটি অখ্যাত দলকে আঁকড়ে ধরেছেন বা ধরতে বাধ্য হয়েছেন। দলটি এনডিএ’র শরিক বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চিত। সেই সূত্রেই কাকলিদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন অগ্নিমিত্রা। প্রশ্ন তুলেছেন তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও। এমনকি, সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপিংস সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শিরোনামে লিখেছেন—‘সুবিধাবাদী রাজনীতিকে মানুষ বিশ্বাস করে না।’ পুরমন্ত্রীর এহেন অবস্থান বিজেপিকে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক শিবিরের মত।
অগ্নিমিত্রা ওই সাক্ষাৎকারে নাম না করে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার ও সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে। তখন সাধারণ এক বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা। সাংবাদমাধ্যমের এক বিতর্কসভায় ডাক পেয়েছিলেন তিনি। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন কাকলিও। ওই সভায় অগ্নিমিত্রাকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছিলেন, ‘শুনেছি উনি শাড়িটাড়ি ছাপেন!’ অগ্নিমিত্রা প্রতিবাদ করেন। পালটা কাকলিদেবীও বলে ওঠেন, ‘ভুলে যাবেন না, আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন।’ সেই কাকলির সঙ্গে বিজেপি শীর্ষনেতাদের দহরম-মহরমের বিষয়টি হজম করতে পারেননি মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। বলেছেন, ‘খারাপ তো লাগবেই। সারা বাংলা সেদিন দেখেছিল, একজন মহিলা আর একজন মহিলাকে কীভাবে অপমান করেছেন। এখন বলে বেড়াচ্ছেন, উনি নাকি আমার ফ্যান।’
আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে সায়নীকে হারিয়েই প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সাক্ষাৎকারে পুরমন্ত্রী বলেছেন, ‘উনি হিন্দু ধর্মকে নানাভাবে অপমান করেছিলেন।’ এরপরই অগ্নিমিত্রার মন্তব্য, ‘সরকার বদল হতেই ওঁদের অবস্থানও পালটে গেল! আমি কেন, সারা বাংলার মানুষ ওঁদের আর বিশ্বাস করে না। ওঁরা বরং তৃণমূলে থাকলেই ভালো করতেন। তা না করে সুবিধাবাদীর মতো দল বদলে ফেললেন!’
তবে, কাকলি-সায়নীদের নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেও দলের নির্দেশকেই শিরোধার্য মানেন অগ্নিমিত্রা। বলেছেন, ‘আমার কাছে দলই শেষ কথা। শীর্ষ নেতৃত্ব যা নির্দেশ দেবে, তাই পালন করব।’