• বর্ষায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা এড়াতে হাওড়ায় কড়া নজরদারি, পুরসভাকে নির্দেশ মন্ত্রীর
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বর্ষার মরশুমে রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট থেকে ঝুলে থাকা বিদ্যুৎবাহী তারের কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা মেনে নেওয়া হবে না। হাওড়া শহরের প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও স্বচ্ছতা কর্মসূচি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রী জানান, বর্ষার আগে শহরে বিদ্যুতের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গায় ল্যাম্পপোস্ট থেকে ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে হাওড়া পুরসভার কমিশনারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একেকজন কর্মীর উপরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ল্যাম্পপোস্টের দায়িত্ব থাকবে। নিয়মিত পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, খুঁটিগুলি নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। এরপর কোনো ত্রুটি বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাঁর দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে বর্ষাকালে জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় শহরের সমস্ত ছোটো, মাঝারি ও বড়ো নালা এবং খাল পরিষ্কারের কাজ দ্রুতগতিতে করার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানো যায়।

    হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়েও এদিন মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা পাল। দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় শহরের নাগরিক পরিষেবার পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দুর্গাপুজোর পর নির্বাচন করার বিষয়ে রাজ্য সরকার আশাবাদী। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন মিললেই ভোট প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ এদিনের অনুষ্ঠানে পুরমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই, শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং, জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া, পুর কমিশনার তেজস্বী রানা সহ জেলা প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। কর্মসূচিতে যোগাসনে অংশ নেন পুরসভার সাফাইকর্মী এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)