টলিপাড়ায় কাজ করলেই আয়ের ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হত স্বরূপকে, আদালতে দাবি পুলিশের
বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টলিপাড়ায় কলাকুশলী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত কর্মীদের আয়ের পাঁচ শতাংশ কমিশন দিতে হত স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার রসিদ থেকে এই তথ্য মিলেছে। বৃহস্পতিবার প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে এই দাবি করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে কোভিডকালে বিভিন্ন নায়ক-নায়িকাদের কাছ থেকেও সংগ্রহ করা বিপুল টাকার হিসাব তিনি দেননি বলে জানা গিয়েছে। রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের হওয়া একটি তোলাবাজি সংক্রান্ত মামলায় স্বরূপকে এদিনই পুলিশি হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। টালিউডে এক মেক আপ আর্টিস্টকে ভয় দেখানো, তোলা আদায় সহ একাধিক অভিযোগে নিউ আলিপুর থানা গ্রেপ্তার করে স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মানি রিসিপ্ট সহ বিভিন্ন নথি উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো শিল্পীই কাজ পেতেন না। স্টুডিয়োপাড়ায় কারা কাজ পাবেন, তা ঠিক করতেন তিনি। কেউ কাজ চাইলে স্বরূপের সঙ্গে একান্তে কথা বলতে হতো। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলেই প্রডিউসার সংশ্লিষ্ট তরুণীকে তাঁর সিনেমায় নিতে পারতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, টলিউডের শিল্পীদের রোজগারের কত শতাংশ কমিশন হিসাবে তাঁকে দিতে হবে, তা নিজেই বেঁধে দিয়েছিলেন স্বরূপ। এই টাকা নগদে সংগ্রহ করতেন স্বরূপের দুই অনুগামী। ওই টাকা আবার ঘুরপথে সিনেমা শিল্প ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ করতেন তিনি।
১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত শেষে বৃহস্পতিবার স্বরূপকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৌরীণ ঘোষাল বলেন, তাঁর কাছ থেকে ৬৬টি রসিদ পাওয়া গিয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে পুলিশ জেনেছে, টলিউডে বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ কমিশন নিতেন স্বরূপ। এই টাকা কেটে তবে চেক বা নগদে পেমেন্ট দেওয়া হতো। তাঁকে টাকা না দিলে কেউ কাজ পেতেন না টলিউডে। একইসঙ্গে কোভিড কালে বিভিন্ন শিল্পীদের কাছ থেকে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার মধ্যে ৭৫ লক্ষ টাকার হিসাব দেননি স্বরূপ। সেকারণে সরকারি আইনজীবী তাঁকে জেল হেপাজতে পাঠানোর আর্জি জানান। স্বরূপের আইনজীবীরা বলেন, তাঁদের মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে পরিচয়পত্র বানিয়ে দেওয়ার নাম করে স্বরূপের বিরুদ্ধে টলিপাড়া থেকে ৯ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয় রিজেন্ট পার্ক থানায়। তোলাবাজির মামলায় তাঁকে হেপাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় রিজেন্ট পার্ক থানা। বিচারক তা মঞ্জুর করেন।