• জয়েন্টের কাউন্সেলিংয়ে প্রতি রাউন্ডে রেজিস্ট্রেশন, চয়েস ফিলিংয়ের সুযোগ
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফল। এদিন ফল প্রকাশের পর কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া আরো নমনীয় করার কথা ঘোষণা করল সংশ্লিষ্ট বোর্ড। বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণার সাংবাদিক বৈঠকে বোর্ড জানিয়েছে, এবার থেকে কাউন্সেলিংয়ের চয়েস ফিলিং এবং রেজিস্ট্রেশনের নিয়মে বদল আসছে। এবার থেকে তিনটি রাউন্ডের যেকোনো একটিতে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। পুরানো নিয়মে প্রথম রাউন্ডের আগে একবারই রেজিস্ট্রেশন করা যেত। পরে কেউ সুযোগ পেতেন না। শুধু তাই নয়, চয়েস ফিলিংও প্রতিটি রাউন্ডেই করা যাবে। এই সুযোগ শুধু যাঁরা পরের রাউন্ডগুলিতে রেজিস্ট্রেশন করবেন, তাঁদের জন্যই নয়, আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করা প্রার্থীরাও সুযোগ পাবেন। ২৯ জুন থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সেলিং শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী বোর্ড।

    আরো বেশি সংখ্যক ছাত্রছাত্রী যাতে রাজ্যের কলেজগুলিতে সুযোগ পান, তাই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন জয়েন্ট বোর্ডের কর্তারা। কারণ, আগের নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের সময় পেরিয়ে গেলে আর কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেওয়া যেত না। অনেক পড়ুয়া সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে সুযোগ হারাতেন। অনেকে আবার অন্য রাজ্যে বা কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাবেন, এই আশায় রেজিস্ট্রেশন করতেন না। পরে কোথাও সুযোগ না পেয়ে রাজ্যের কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে চেয়েও পারতেন না। ফলে, এই নিয়ম পরিবর্তিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি, চয়েস ফিলিং একাধিকবার করার সুযোগেও লাভবান হবেন ছাত্রছাত্রীরা। আগে চয়েস ফিলিং একবার করা হয়ে গেলে আর পরিবর্তনের সুযোগ ছিল না। আপডেট রাউন্ডের অপশন নিলে অন্য কোর্স বা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প খুলত। অনেকের ক্ষেত্রে একেবারেই দরজা বন্ধ হয়ে যেত। তবে, এবার প্রতি ধাপে পছন্দ পরিবর্তন করতে পারবেন পড়ুয়ারা। শুধু তাই নয়, আগেরবার কত সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কোর্সে ভরতি হওয়া গিয়েছিল, তারও উল্লেখ থাকবে সাইটে।

    বোর্ডের চেয়ারম্যান গৌতম পাল জানান, ৯৪,৯০১ জন পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬৭,৩৭৮ (৭১ শতাংশ) জন ছাত্র এবং ২৭,৫২১ (২৯ শতাংশ) জন ছাত্রী। ৯২,৭৫৩ জন র‌্যাঙ্ক পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৭১.৫৭ শতাংশ এবং ছাত্রী ২৮.৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ এই তথ্য বলছে, ছাত্রীরা ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মাসি পড়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই নিরুৎসাহী। প্রথম হয়েছেন শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকের বাসিন্দা হলেও রাজস্থানের কোটার একটি স্কুলে পড়েন তিনি। দ্বিতীয় সৌঋদ্ধ মণ্ডল বিবেকানন্দ মিশন স্কুলের ছাত্র। তৃতীয় উমঙ্গ ভূত দুর্গাপুরের পূর্ব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র। প্রথম দশে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অনুমোদিত স্কুলের দুজন ছাত্র রয়েছেন। ষষ্ঠ আর্হ্য ভট্টাচার্য পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা জিরাট হাইস্কুলের ছাত্র। আর অষ্টম মণীশ সেনাপতি পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র। বাকিরা হয় সিবিএসই নয় সিআইএসসিই অনুমোদিত স্কুলে পড়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)