মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শোভনদেব, কুণালদের, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা: হাইকোর্ট
বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল রইল। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল না হাইকোর্ট। ফলে ঋতব্রতই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো আইনগত কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদিও তিন সপ্তাহের মধ্যে স্পিকার ও ঋতব্রতকে হলফনামা দিয়ে তাঁদের নিজদের বক্তব্য জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পরবর্তী দু-সপ্তাহের মধ্যে উত্তর দেবেন মামলাকারী। ২৮ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এদিন রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মধ্যে দিয়ে বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। তার কিছুক্ষণ আগে হাইকোর্টের নির্দেশ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া ঋতব্রত শিবিরে।
অধিবেশনে রাজ্যপাল বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই নতুন সরকার দেশের অখণ্ডতা, সমৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তারক্ষার প্রতি নিশ্চিতরূপে অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে রাজ্যের সর্বাঙ্গীণ উন্নতিসাধনে সচেষ্ট হবে। সকল মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত করে তাঁদের কল্যাণসাধনেও ব্রতী হবে রাজ্য।
এদিন বিধানসভায় রাজ্যপালকে স্বাগত জানানো এবং পরে গাড়ি পর্যন্ত তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার সময় শুভেন্দুর পাশেই ছিলেন ঋতব্রত। অধিবেশন কক্ষে বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট আসনেই ঋতব্রত বসেন। তাঁর পাশে বসেন আখরুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান প্রমুখ। এই সারিতেই পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের। অন্যদিকে, অধিবেশন কক্ষের মধ্যে অন্য একটি সারিতে বসার ব্যবস্থা হয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের।
তবে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, অশোক দেব, আবদুর রহিম বক্স প্রমুখ। বিরোধী দলের বিধায়কদের যথাযথ সম্মান জানান শুভেন্দু। চা-বিস্কুট খাইয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথাও বলেন তিনি। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়করা আবেদন করেন, বিধানসভায় বসার জন্য তাঁদের একটি আলাদা ঘর দেওয়া হোক। এছাড়া বিধানসভার বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক তাঁদের। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়েও দু-পক্ষের মধ্যে কথা হয় এদিন। ঋতব্রতর নাম না করে তাঁকে খোঁচা দিয়ে কুণাল বলেন, কেউ গ্যারাজের সামনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু আমাদের তা করতে হয়নি। এক মিনিটও অপেক্ষা না করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ঘরে ডেকে নেন আমাদের। হকারদের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি আমরা। তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার বুলডোজার চালাবে না।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নয়ন নিয়ে সব দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি ১৬ জন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। দল তাঁদের পাশে আছে বলে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী।