আলিপুর কোর্টে বিপাকে অরূপ, বিক্ষোভ থেকে বাঁচতে ঘরবন্দি
বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিনঘণ্টা পুলিশি জেরার পর দুপুর ১টা নাগাদ বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে বের হন মেসি কাণ্ডে অভিযুক্ত অরূপ বিশ্বাস। সংবাদমাধ্যম তখনো তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য থানার মূল দরজার বাইরে অপেক্ষা করছে। তাঁদের প্রশ্ন এড়াতেই গাড়ি নিয়ে কার্যত দ্রুত পালানোরই চেষ্টা করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। মিডিয়া পিছু নেওয়ায় শহরের ৩৫ কিমি রাস্তায় একেবারে চরকিপাক খেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। মুখ লুকোতে সটান আলিপুর আদালতে এক নামী আইনজীবীর চেম্বারে ঢুকে যান তিনি। কোর্ট চত্বরে এই খবর চাউর হতেই বিক্ষোভ দানা বাঁধে। আইনজীবীদের একাংশ ওই চেম্বার ঘিরে রাখেন। শুরু হয় ‘চোর চোর’ স্লোগান। মহিলা আইনজীবীরা এগিয়ে এসে বলতে শুরু করেন— ‘মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারীর উচিত গারদে থাকা। এ এখানে কী করছে। বেরিয়ে আয়, বেরিয়ে আয়!’
ক্ষোভ চরম আকার নেয় ক্রমে। বিক্ষোভকারীরা আইনজীবীর চেম্বারের কাচ ভেঙে দেন। সংশ্লিষ্ট চেম্বারের বিদ্যুৎসংযোগও বন্ধ করে দেন তাঁরা। অন্ধকারে ‘ঘরবন্দি’ অবস্থাতেই প্রায় আড়াই থাকতে বাধ্য হন অরূপ। এরপরই পরিস্থিতি বাগে আনতে পৌঁছে যায় আলিপুর থানার পুলিশ। অরূপকে বের করে তারা। পূর্বতন শাসক দলের প্রভাবশালী নেতার দিকে উড়ে আসে একের পর এক ডিম। তাঁকে কোনোক্রমে বের করে, পুলিশের গাড়িতে চাপিয়ে নিউ আলিপুর মোড় পর্যন্ত ছেড়ে দেন আলিপুর থানার উর্দিধারীরা। সেখান থেকে নিজের গাড়িতে উঠে তবেই নিস্তার মেলে অরূপের।
অন্যদিকে, এদিন জেরার পর বিধাননগর দক্ষিণ থানা থেকে বেরিয়ে মা ফ্লাইওভার হয়ে ডিএল খান রোড ক্রসিংয়ের কাছে পৌঁছায় অরূপের গাড়ি। প্রাক্তন দাপুটে মন্ত্রী তখন ফাঁসেন বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে! অরূপের গাড়ি আটকায় কলকাতা পুলিশ। কালো কাচ নামাতেই অবাক ট্রাফিক সার্জেন্ট—এ যে প্রাক্তন ‘প্রভু’! তাই নিয়মমাফিক জরিমানা করা হয়নি, শুধুমাত্র চালককে সাবধান করেই যাওয়ার অনুমতি দেন উর্দিধারী। এরপরেই আলিপুর আদালতে প্রবেশ করেন অরূপ বিশ্বাস। আইনজীবীদের পরামর্শ নিতেই তিনি সেখানে গিয়েছেন বলে জানান মিডিয়াকে।