• ঋতব্রতর পাশে ববি, আলাদা ঘর চা‍ন শোভনদেবরা
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • এই সময়: বিদ্রোহ প্রকাশ্যেই এসে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় বসবেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা, কোথায় বসবেন এখনও কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বিধায়করা— এ নিয়েই এখন যত জটি‍লতা!

    বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন থেকে মানতে পারছেন না কালীঘাট ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়করা। বিধানসভায় ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে কোনওরকম বোঝাপড়ায় যেতে চান না তাঁরা। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষের মতো কালীঘাট ঘনিষ্ঠরা চাইছেন ঋতব্রত শিবির থেকে দূরে থাকতে। সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন শোভনদেব–কুণালরা। বিধানসভায় বসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আলাদা ঘরও চেয়েছেন তাঁরা।

    বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন বিধানসভার আসন বিন্যাসও ছিল যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের অন্দরে প্রবল টানাপড়েনের প্রতিফলন দেখা যায় আসন বিন্যাসে। শোভনদেব, কুণাল, অশোক দেব, রুকবানুর রহমান, মদন মিত্র, আব্দুর রহিম বক্সি, আলিফা আহমেদরা একসঙ্গে বসেছিলেন এ দিন। অন্য দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসতে দেখা যায় বিরোধী দলনেতার নির্দিষ্ট আস‍নে। তাঁর পাশেই ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খান। জোড়াফুলে বিদ্রোহ সামনে আসার পরে বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে ফিরহাদকে। তবে তিনি কোন নৌকোয় পা রেখেছেন, তা দু’জনের কেউ স্পষ্ট করেননি। এ দিন অবশ্য বিধানসভায় ঋতব্রতর পাশেই ফিরহাদ বসায়, তিনি কোন দিকে সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এর পাশাপাশি, বিধানসভা অধিবেশন কক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর পাশের আসনটি কোন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হয়, সে দিকেও সবার নজর ছিল। বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর পাশের আসনটি বরাদ্দ হয়েছে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের জন্য। এখন প্রশ্ন হলো, অধিবেশন কক্ষের বাইরে কালীঘাট ঘনিষ্ঠ বিধায়করা বসবেন কোথায়? বিধানসভায় আলাদা ঘর চেয়ে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দরবার করেন কালীঘাট ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের একাংশ।

    পরে সাংবাদিক বৈঠক করে শোভনদেব বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, আমাদের বসার জায়গা কোথায়? উনি আমাদের সম্মান দিয়েছেন।’ কুণালের কথায়, ‘আমরা ওই ঘরে বসব না। আমরা মমতা ব‍ন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। আমরা সবাই তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এসেছি।’ তাঁর সংযোজন, ‘প্রয়োজনে বিধানসভার লবিতে বসে থাকব। অধিবেশনে বলার জন্য ঋতব্রতর কাছ থেকে সময় চাইব না। স্পিকারকে মানব। মুখ্যমন্ত্রীকে মানব। বলতে দেবেন না, বলব না।’ সূত্রের খবর, শোভনদেবদের আর্জিতে সাড়া দিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে ডেকে শোভনদেবদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)