• বজ্রপাতে নয়, তড়িদাহত হয়ে দাঁতালের মৃত্যু, দাবি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: বাজ পড়ে নয়, বরং বিদ্যুতবাহী তারের ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হয়েছে হাতির। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক যুবককে। বুধবার সকালে আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন শালকুমারের কলাবাড়িয়ার মণ্ডলপাড়ায় শশাখেতে একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতালের মৃতদেহ পাওয়া যায়। বন দপ্তরের কর্মীরা দেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে মনে করেছিলেন, যে হেতু মঙ্গলবার রাতে প্রবল বজ্রপাত হয়েছে, তাই বাজ পড়ে বুনোটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। সে দিনই মৃত্যদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই চক্ষু চড়কগাছ বনকর্তাদের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাতির মৃত্যু হয়েছে তড়িদাহত হয়ে!

    ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সূত্র ধরে বন দপ্তরের অনুমান, মণ্ডলপাড়ার ঘটনায় শশাখেতে বিদ্যুতবাহী তারের ফেন্সিং দেওয়া হয়েছিল। ওই খেতের মালিক প্রদীপ বর্মনকে এ দিন গ্রেপ্তার করে আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করে সাত দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জেরা শুরু করেছে বন দপ্তর। এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ বলেছেন, ‘স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, যারা বন ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করবে, তাদের জন্য সবচেয়ে খারাপ বনমন্ত্রী হব আমি। কাউকে রেয়াত করা হবে না।’

    বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে ফসল রক্ষার নামে বহু জায়গায় চাষিরা গোপনে বিদ্যুৎবাহী তারের ফেন্সিং দেন। কিংবা তার ফেলেও রাখেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ফেন্সিং ব্যবস্থা হাতিদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাঁদের মতে, গত দুই দশকে তরাই-ডুয়ার্স মিলিয়ে শতাধিক হাতির মৃত্যু হয়েছে মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে। তবু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। এর আগে ডুয়ার্সে বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে বিদ্যুতবাহী তারের সংস্পর্শে এসে হাতি–শাবকের মৃত্যু হয়েছে। ফলে তদন্তকারীদের মতে, শালকুমারহাটেও তেমনই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)