• ডেঙ্গি–মৃত্যুতে তথ্য গোপন নয়, পোস্ট মর্টেমের ভাবনা রাজ্যের
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • এই সময়: ডেঙ্গি-আক্রান্ত কারও মৃত্যু হলে নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও রোগের জটিলতা খতিয়ে দেখতে সব ক্ষেত্রেই প্যাথলজিক্যাল অটোপসি চালুর কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়মিত কেন্দ্রকে পাঠানো হবে এবং কোনও তথ্য গোপন করা হবে না বলেও জানান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বুধবার মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ নিয়ে স্বাস্থ্য, সাধারণ প্রশাসন, পুর ও পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি এই বার্তা দেন।

    ডেঙ্গি-মৃত্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক। ডেঙ্গি-আক্রান্ত অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হলেও সরকারি ব্যাখ্যায় অনেক ক্ষেত্রে এ জন্য সরাসরি ডেঙ্গিকে দায়ী করা হয়নি। ফলে ডেঙ্গি-মৃত্যুর যথাযথ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশ জানান, সেই বিতর্কের অবসান ঘটানোর সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বার্থেও এই নয়া পরিকল্পনা। ডেঙ্গিতে মৃতদের ক্ষেত্রে মেডিকোলিগ্যাল পোস্টমর্টেম নয়, প্যাথলজিক্যাল অটোপসি চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, 'ডেঙ্গিতে মৃত্যু চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়। কোন প্যাথলজিক্যাল প্রক্রিয়ায় মৃত্যু, তা জানাও জরুরি। এতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।'

    তিনি জানান, মৃতের পরিবারের কাছে স্পষ্ট করে বোঝাতে হবে যে আইনি তদন্তের জন্য ময়নাতদন্ত নয়, রোগের প্রকৃতি বুঝতে পরীক্ষা। ২৯ জুন দিল্লিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সামনেও বিষয়টি উত্থাপনের ইচ্ছে শারদ্বতের। তাঁর দাবি, দেশের অন্য কোথাও এখনও এমন ব্যবস্থা চালু নেই। ফলে এটি বাস্তবায়নে একটি নির্দিষ্ট এসওপি তৈরির প্রয়োজন হবে।

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় সচেতনতাকেই বড় অস্ত্র বলছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তাই স্কুলপড়ুয়াদের সচেতনতা অভিযানের কেন্দ্রে আনার পরিকল্পনা হয়েছে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্কুলে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলবে। ডেঙ্গির উপসর্গ, মশার বংশবিস্তার রোধ ও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা নিয়ে পড়ুয়াদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মন্ত্রীর কথায়, 'সরকারের কথা মানুষ না-ও শুনতে পারেন, কিন্তু সন্তানের সতর্কবার্তা সহজে উপেক্ষা করবেন না।'

  • Link to this news (এই সময়)