এই সময়, কোচবিহার: দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন হাউস ফর অল প্রকল্পে প্রায় আড়াই হাজার উপভোক্তার থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিলেন উদয়ন বলে অভিযোগ। গত ১১ জুন গোপাল সাহা নামে একজন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার জন্য দিনহাটা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই বুধবার গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দিনহাটা আদালতে তোলা হয় উদয়নকে। ছ’দিনের পুলিশ রিমান্ড দিয়েছেন বিচারক। ফের ২৩ জুন দিনহাটা মহকুমা আদালতে উঠবে এই মামলা। পুলিশ জানিয়েছে, ২ হাজার ২০০ জনের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছিল। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।
কলকাতা থেকে সড়কপথে এদিন ভোর ৫টা নাগাদ উদয়নকে নিয়ে দিনহাটা এসে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। সকাল ৯টা নাগাদ লকাপের ভেতরেই দই এবং চিড়ে দিয়ে প্রাতঃরাশ সারেন তিনি। বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয় উদয়নকে। সেসবও তিনি খেয়েছেন। তবে লাঞ্চ তিনি খাননি বলেই খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, লকআপের বাইরে বসার জন্য আবদার করেছিলেন উদয়ন। সেই আবদার অবশ্য পুলিশ কানে তোলেনি। তাঁর লকআপে বসে থাকা এবং মাটির উপরে শুয়ে থাকার ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে (ছবির সত্যতা যাচাই করেনি এই সময়)। এদিন দিনহাটা মহকুমা আদালতে প্রাক্তন মন্ত্রীর হয়ে স্থানীয় কোনও আইনজীবী দাঁড়াতে চাননি। কোচবিহার শহরে থাকা দিনহাটা আদালতের এক আইনজীবী তাঁর হয়ে সওয়াল করেন। যদিও উদয়নের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, দিনহাটা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান দুর্নীতি কাণ্ডেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সূত্র সামনে আসায় এই মামলায় উদয়নকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং বলেন, ‘হাউসিং ফর অল প্রকল্পে গোপাল সাহা নামে একজনের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে উদয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল। তদন্ত নেমে জানা যায়, বহু উপভোক্তার কাছ থেকেই বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।