রাতে তুমুল বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের সমতল এবং পাহাড়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভাঙল দুধিয়ার সেতুও। যার জেরে আপাতত বন্ধ শিলিগুড়ি-মিরিক যান চলাচল।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ পাহাড় ও শিলিগুড়িতে ভারী বৃষ্টি নামে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টি চলে। যার জেরে পাহাড়ের একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। জল বেড়েছে বালাসন নদীতেও। তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুধিয়ার নবনির্মিত হিমপাইপের সেতু। যার ফলে ওই সেতু দিয়ে মিরিক হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তা আপাতত বন্ধ। এখন মিরিকের বাসিন্দাদের ঘুরপথে ঘুম হয়ে শিলিগুড়ি যাতায়াত করতে হবে।
গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিপর্যয় নেমে এসেছিল পাহাড়ে৷ মিরিক-সহ কার্শিয়াং এবং দার্জিলিঙের অনেক এলাকা ধসের কবলে পড়েছিল। অনেকের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ হন অনেকেই। সেই সময়ই দুধিয়ার প্রধান সেতুর তিন নম্বর পিলার বালাসনের জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশেই তড়িঘড়ি বালাসনের উপর হিমপাইপ দিয়ে বিকল্প সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু ভারী বৃষ্টি এবং নদীতে জলস্তর বাড়লেই বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই সেতু। যার জেরে ব্যাহত হয়েছে পরিবহণ। এ দিকে, সরকারি উদ্যোগে নতুন যে সেতু তৈরি হচ্ছে, সেটির কাজ আগামী বছরের আগে সম্পূর্ণ হওয়ার কথা নয়।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে আড়াই ঘণ্টায় মিরিকে ৬৩ মিলিমিটার এবং কার্শিয়াংয়ে ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই বিপুল জলরাশি বালাসন হয়ে নামার জেরেই দুধিয়ার ডাইভারশনটি ভেঙে গিয়েছে। শিলিগুড়িতে একই সময়ে বৃষ্টি হয় ২৪৬ মিলিমিটার। ফলে শিলিগুড়িতে মহানন্দা-সহ সব ছোট-বড় নদীতে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। মহানন্দায় বিপদসীমার সামান্য নীচ দিয়ে জল বইছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীর স্রোতের বেগ কমলে দুধিয়ার ডাইভারশন মেরামতিতে ফের হাত দেওয়া হবে।