ইরান-US চুক্তি কি টিকবে? খামেনেইয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে জল্পনা
আজ তক | ১৯ জুন ২০২৬
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে MoU স্বাক্ষরের একদিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি নিশানা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তিনি দাবি করেন, একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে ট্রাম্প 'মরিয়া' হয়ে উঠেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যেই 'সব ধরনের চাপ ও প্রভাব' খাটিয়েছেন।
চুক্তির খসড়া স্বাক্ষরের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বৃহস্পতিবার মোজতবা খামেনেই ইরানের জনগণকে বলেন, তিনি নীতিগত কারণে প্রথমে এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে পরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেন। তাঁরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে দেশের স্বার্থ এবং 'রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট'-এর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
খামেনেই বলেন, 'দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আর অবশ্যই মার্কিন প্রেসিডেন্টই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি মরিয়া হয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রভাব খাটিয়েছেন।'
গত ১৮ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ছিল কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ খুলে দেওয়া। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাথমিকভাবে নথিটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে চুক্তিটি অনুমোদন করেন।
মার্কিন দাবি মানবে না ইরান
খামেনেইর লিখিত বিবৃতিতে চুক্তিকে ঘিরে ইরানের অভ্যন্তরীণ আলোচনার এক বিরল চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁকে স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো 'অতিরিক্ত' বা অযৌক্তিক দাবি তোলে, তবে তেহরান তা মেনে নেবে না।
খামেনেই বলেন, 'আমি স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যদি মার্কিন পক্ষ অতিরিক্ত দাবি তোলে, তাহলে আমরা তার কাছে আত্মসমর্পণ করব না।'
চুক্তিকে সমর্থন করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা শুরু হলেও তা কখনওই মার্কিন অবস্থান মেনে নেওয়ার সমতুল্য হবে না।
তাঁর কথায়, 'ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা শুরু হলেও তা শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার অর্থ নয়।'
খামেনেইর পাশে আরাঘচি
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি খামেনেইর বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনায় ইরানের স্বার্থ রক্ষায় তেহরান তার 'সমস্ত ক্ষমতা' ব্যবহার করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা মেনে চলবে এবং আলোচনার পরবর্তী ধাপে ইরানের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কাজ করবে।
চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু
খামেনেইর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চুক্তির প্রথম বাস্তব ফলাফল দেখা দিতে শুরু করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকরের সমস্ত অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী আর ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দিচ্ছে না।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজগুলিকে দ্রুত ট্রানজিট অনুমোদন দেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রণালি ব্যবহার বাবদ নেওয়া ফি মকুব করা হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা নয়, বরং একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো। এতে উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কের সমাধান।