চলতি মাসেই ইপিএফের সুদের টাকা পেয়ে যাবেন দেশের প্রায় ৭ কোটি ইপিএফও সদস্য। সিবিটির প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। চলতি বছরও ৮.২৫ শতাংশ হারেই সুদ পাবেন ইপিএফও গ্রাহকরা। এই নিয়ে টানা তিন বছর একই রইল সুদের হার।
২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষের সুদের হার আগের দু’বছরের মতোই ৮.২৫ শতাংশেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইপিএফও। শেষবার ইপিএফের সুদের হার বেড়েছিল ২০২৪-এ। সেটাও ছিল সামান্য বৃদ্ধি। ২০২২-২০২৩ বর্ষের ৮.১৫ থেকে সেবার সুদের হার বেড়ে হয়েছিল ৮.২৫ শতাংশ। তারপর থেকে ৩ বছর আর সুদ বাড়ানো হয়নি। সূত্রের খবর, ২ মে ইপিএফও-র সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (সিবিটি) বৈঠকে বসেছিল। সেখানে ঠিক হয়, চলতি অর্থবর্ষে সুদের হার ৮.২৫ শতাংশই থাকবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সিবিটির সেই সিদ্ধান্তে সবুজ সংকেত দেওয়ায় ২০২৫-২৬ সালের সুদের হার কার্যকর হচ্ছে। সূত্রের খবর, চলতি মাসেই ইপিএফের ওই সুদের টাকা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিককালে, ইপিএফে সুদের হার সাত কোটির উপর গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে বেশি ছাঁটা হয় ২০২২-এর মার্চে। ২০২০-২১-এ যে হার ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ, তা ২০২১-২২ বর্ষে নেমে যায় ৮.১০ শতাংশে। সুদের হারে চার দশকে সেটাই ছিল সবচেয়ে বেশি পতন। ১৯৭৭-৭৮-এ হার ছিল ৮ শতাংশ। তারপর ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নামমাত্র বাড়ানো হয়। গত তিন বছর সুদের হার বদলায়নি।
জানা গিয়েছে, চলতি বছর সুদের হার সামান্য বাড়িয়ে ৮.৩০ করার ভাবনা ছিল সিবিটির। কিন্তু বাজার থেকে সাড়া না মেলায় সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এই সুদের হার ধরে রাখতেই ৯৪৪ কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখতে হবে ইপিএফও-কে। তবে তাতে ভাবনার বিশেষ কারণ নেই। কারণ গত বছর ইপিএফও পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ তুলেছে। সেটা দিয়েই আগামী পাঁচ বছর লোকসান মোকাবিলা করা যাবে।