• ‘বিকশিত ভারতে’ নিয়োগ? সংখ্যা বিভ্রান্তি নীতি আয়োগ-পিএমওর
    বর্তমান | ১৯ জুন ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রকল্প। গালভরা নাম, এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেন্টিভ স্কিম। প্রচার কী? চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তার জন্য বরাদ্দ হয় ১০ হাজার কোটি টাকা। অথচ, গোটা বছরে সেই স্কিম দিনের আলোই দেখেনি। পরের অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৫-২৬’এ নতুন উদ্যোগে সেই প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র। তবে নাম বদলে। এবার তার পোশাকি নাম, প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা। এই স্কিমে  কাজে যোগদানকারী যুবক-যুবতী এবং নিয়োগকারী সংস্থাকে ইনসেন্টিভ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর পর সরকার ঘোষণা করেছিল, আগামী ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ৩ কোটি চাকরি হবে সংগঠিত ক্ষেত্রে। দেওয়া হবে মোট ৯৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা ইনসেন্টিভ। কিন্তু বছর ঘোরার মুখে কেন্দ্রের দু’টি ‘স্তম্ভ’ই পরিসংখ্যানে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে। নীতি আয়োগের দাবি, ওই স্কিমে ইতিমধ্যে ৬০ লক্ষ মানুষ চাকরি পেয়েছেন। অথচ, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) ঘোষণা করেছে, চাকরি প্রাপকের সংখ্যা ১৫ লক্ষ। এখন প্রশ্ন হল, কোনটা ঠিক? শ্রমমন্ত্রকের পরিসংখ্যান ধরলে বাকি দু’পক্ষই হয়তো মুখ লুকোবে। কারণ, ওই মন্ত্রকের দাবি, চাকরি প্রাপক মাত্র পাঁচ লক্ষ!

    কেন চাকরির পরিসংখ্যান নিয়ে এত বিভ্রান্তি ও লুকোচুরি? দপ্তরের কর্তারা বলছেন, সংগঠিত ক্ষেত্রে কত নতুন চাকরি হল, তার পরিসংখ্যান নিয়ম করে প্রকাশ করে ইপিএফও। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা চালুর পর থেকেই সেই তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। পাছে প্রধানমন্ত্রীর নামাঙ্কিত প্রকল্পের আসল ছবি সামনে চলে আসে! তাঁদের দাবি, যে প্রকল্পের জন্য খরচের হিসাব ধরা হয়েছে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা, সেখানে নরেন্দ্র মোদি আজ, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ২৪০০ কোটি টাকা খরচের কথা ঘোষণা করবেন! 
  • Link to this news (বর্তমান)