• একলা মানুষের দেখভাল করছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চলছে 'জয়িতা'র শুটিং
    eTV Bharat | ১৯ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 18 জুন: আষাঢ়ের তপ্ত দুপুর। লেক গার্ডেন্স চত্বরে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর বাড়ির কাছেই একটি পুরনো বাড়িতে শুটিং চলছে জিৎ দত্ত পরিচালিত ছবি 'জয়িতা'র। নাম ভূমিকায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সেট-এ পৌঁছতেই দেখা মিলল ছবির পরিচালক জিৎ দত্তর। তাঁর কথায়, "জয়িতা মূলত একাকীত্বের গল্প। বাবা-মা'কে ছেড়ে সন্তানরা আজ বাইরে। দিনের পর দিন বাবা-মা একাকিত্বে ভুগছেন। এতে তাঁদের মানসিক অবস্থারও অবনতি ঘটছে। তার থেকে মুক্তির পথও বের করার উপায় বলে দেবে এই ছবি।"

    তিনি আরও বলেন, "ঋতুর সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য সবসময়ই একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা । আমরা 'পটাদার কীর্তি' ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। একজন পরিচালক তাঁর কাজের জন্য যা যা কিছু চান ঋতু তার সবটা হাসিমুখে জোগান দিয়ে চলেন। আসলে তিনি নিজে একজন সৃজনশীল মানুষ, তাই অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা অনেক সহজ ওঁর কাছে। শুধু তাই নয়-রোহিত রায়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও দারুণ।" রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় যে পরিবর্তন আসতে চলেছে তাতে খুশি পরিচালক। তাঁর মতে, কাজ আরও সুষ্ঠুভাবে হবে এবং প্রযোজকেরা কাজ করার উৎসাহ পাবেন নির্ভয়ে।"

    এই ছবিতে রত্না ঘোষাল রয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর মাসিমণি অর্থাৎ নিভার চরিত্রে। এই চরিত্র নিয়ে বেশ খুশি তিনি। বেশ অনেকদিন পর আবার কাজে ফিরলেন তিনি। ইটিভি ভারতের প্রতিনিধিকে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, "ঋতুর সঙ্গে কাজ মানেই ভালো কিছু ঘটতে চলেছে। এই ছবিতে আমি ওর মাসির চরিত্রে। আমাকে মায়ের মতোই দেখে জয়িতা।"
    অনেকদিন পর আবার ফেরা? এতদিনের ব্রেক কেন? রত্না ঘোষাল বলেন, "যখন মেগা করতাম তখন সবাই ভাবত মেগা করতে করতে ছবিতে সময় দিতে পারব কিনা। এরপর মেগা ছাড়লাম। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে আমার তেমন আলাপ নেই। আর ভালো, গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র না পেলে আমি কাজও করতে রাজি নই।" আগামীদিনে ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো কাজ হবে বলে আশাবাদী তিনি।

    একেবারে সাদামাটা লুকে এই ছবিতে দেখা যাবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে। পরনে সাদা রঙের সুতির ঢিলেঢালা সালোয়ার কামিজ। হালকা করে বাঁধা চুল। শটের ফাঁকেই কথা বললেন। বলেন, "এই ছবিতে জয়িতাও একজন সাধারণ মেয়ে। বরাবরই সাধারণ মেয়ের গল্প বলতে আমার খুব ভালো লাগে। আর তাই যখনই এরকম গল্প পাই, ইচ্ছে করে অভিনয় কর‍তে। জিতের সঙ্গে এটা আমার দ্বিতীয় কাজ। এর আগে ওঁর সঙ্গে আমি 'পটাদার কীর্তি' করেছি।"

    ঋতুপর্ণা আরও বলেন, "মানুষ আজ খুব একা হয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা বাইরে চলে যাচ্ছে। বাবা-মাকে দেখার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির দরকার পড়ছে। এই এজেন্সিগুলো ওই একাকীত্বে ভোগা মানুষগুলির যত্ন করে। আমার মনে হয় তাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মনের দিকেরও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এই সিনেমাটা সেই দিকটাও তুলে ধরা হবে। এই ছবিতে আমি যে চরিত্রটা করছি সেও একটি এজেন্সি থেকে আসে এবং একজন বয়স্ক ভদ্রলোকের দেখভাল করে। সেখান থেকে একটা গল্প শুরু হয়। বয়স্ক মানুষটির চরিত্রে বিশ্বজিৎ দা আছেন। এছাড়াও আছেন দারুণ অভিনেত্রী রত্না ঘোষাল। আমাকে অভিনয়ে প্রথম সুযোগ দেন উনিই। আর তারপর প্রভাত রায়। সেই সব তো সবারই জানা। এই ছবিটা যে বিষয় নিয়ে সেটার সঙ্গে অনেক মানুষই নিজেদের খুঁজে পাবেন। আমি চাই জয়িতার মতো মেয়েদের গল্প আরও আসুক।"

    প্রসঙ্গত, ছবির গল্পের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিপত্নীক শুভেন্দু রায়চৌধুরী নামের জনৈক ব্যক্তি অনেক ঐশ্বর্য আর প্রাচুর্যের মধ্যে বসবাস করে । কিন্তু তার সঙ্গে কোনও মানুষের কোনও যোগাযোগ নেই । শুভেন্দুর এক বন্ধুর পরামর্শে জয়িতা শুভেন্দুকে দেখার দায়িত্ব পায় । বুঝতে পারে তার আসল রোগ 'একাকীত্ব'। এরপর কী হয় সেটাই দেখার।

    ছবিতে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রত্না ঘোষাল ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন রোহিত রায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, মানসী সিনহা, ঋক মিত্র প্রমুখ।
  • Link to this news (eTV Bharat)