• ‘ব্যান করার যথেষ্ট কারণ আছে...’, টেলিগ্রাম নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই সায় দিল্লি হাইকোর্টের
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের উপরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখল দিল্লি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়ে আদালত জানিয়েছে, এই অ্যাপ নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট কারণ আছে। NEET UG-র আগে অ্যাপের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছিল টেলিগ্রাম। সেই মামলাতেই শুক্রবার এই নির্দেশ দিল আদালত।

    শুধু পরীক্ষার প্রশ্ন কেনাবেচা নয়। কেন্দ্রের অভিযোগ, ড্রাগ র‌্যাকেট, সাইবার ক্রাইম, পর্নোগ্রাফিক ভিডিয়ো আদানপ্রদান-সহ নানা বেআইনি কাজ চলে টেলিগ্রামে। কেন্দ্রের কথায়, নতুন ডার্ক ওয়েব টেলিগ্রাম। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের বিরুদ্ধে আদালতে এমনই অভিযোগ জানিয়েছিল কেন্দ্র।

    শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট টেলিগ্রামের ওপর কেন্দ্রের আরোপ করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে— এই ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া কারণ যথেষ্ট ও আইনসম্মত। আদালতের রায়ের মূল ফোকাস ছিল পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থ। বিচারপতি তেজস কারিয়া জানান, NEET UG-র কথা মাথায় রেখে অসদুপায় অবলম্বন আটকাতে কেন্দ্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ ‘যুক্তিসঙ্গত’ এবং তা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ধারা ৬৯এ-এর অধীনে জারি করা এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে টেলিগ্রামের করা আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। একইসঙ্গে বিচারপতি তেজস কারিয়ার পর্যবেক্ষণ, ‘সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ন্যূনতম বিধিনিষেধ। এই মুহূর্তে সরকারের পদক্ষেপ অযৌক্তিক বলা যায় না।’

    আদালতের সামনে কেন্দ্র ও পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার যুক্তি ছিল— NEET-UG রি-টেস্টের আগে টেলিগ্রামের কিছু চ্যানেল প্রশ্নফাঁসের দাবি করে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছিল। এই ভুয়ো খবরকেই হাতিয়ার করে টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সরকার দাবি করে, প্রশ্ন সত্যি ফাঁস হয়ে থাকুক বা না থাকুক— ‘লিক হয়েছে’ বলে প্রচার করাও পরীক্ষার্থীদের ঠকানোর হাতিয়ার হতে পারে।

    টেলিগ্রামের পক্ষল থেকে আদালতে জানানো হয়, কয়েকজন ব্যবহারকারীর অপব্যবহারের জন্য পুরো প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা উচিত নয়। সংস্থাটি আরও দাবি করে যে তারা শত শত সন্দেহজনক লিঙ্ক ও কনটেন্ট সরিয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা কোটি ব্যবহারকারীর মতপ্রকাশ ও তথ্য পাওয়ার অধিকারে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু আদালত এই পর্যায়ে সরকারের সতর্কতামূলক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ২২ জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধই থাকছে টেলিগ্রাম। ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত থাকবে ব্যবহার।

  • Link to this news (এই সময়)