• বিধবা ভাতার টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে, তদন্ত দাবি মহিলার
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • এই সময়, মেদিনীপুর: স্বামীর মৃত্যুর পরে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। কবে টাকা আসবে খোঁজ নিতে গেলে বারবারই পঞ্চায়েতের তরফে তাঁকে বলা হয়েছে, তাঁর আবেদন এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায়। এতদিনেও টাকা না পেয়ে হতাশই হয়ে পড়েছিলেন মহিলা। সম্প্রতি ফের খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, মহিলার নামে বিধবা ভাতা কয়েক বছর আগেই চালু হয়ে গিয়েছে। তবে সেই টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না ঢুকে ঢুকছে অন্য একজনের অ্যাকাউন্টে। এক পরেই সবর হয়েছেন মহিলা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল মেদিনীপুর সদর ব্লকে। দাবি উঠেছে তদন্তের।

    কঙ্কাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের খয়রুল্লাচক এলাকার বাসিন্দা লতিকা দে অভিযোগ করেছেন, ২০২২ সাল থেকে তাঁর নামে অনুমোদিত বিধবা ভাতার টাকা অন্য একজনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পরে ২০১৮ সালে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন লতিকা। এর পরে কবে থেকে টাকা মিলবে তা জানতে বারবার ছুটেছেন পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। লতিকার অভিযোগ, প্রত্যেক বারই তাঁকে বলা হয়েছে, তাঁর আবেদন এখনও ‘পেন্ডিং’ অবস্থায় রয়েছে। হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি মোবাইলে মায়ের আবেদনের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করেন মহিলার ছেলে। তাতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। ছেলে দেখেন, সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে যে, ২০২২ সাল থেকে ওই ভাতার টাকা নিয়মিত জমা হচ্ছে।

    এর পরে অ্যাকাউন্ট নম্বর মিলিয়ে দেখা যায়, লতিকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শেষ চারটি সংখ্যা ০৯৭৯ হলেও ভাতার টাকা যাচ্ছে ০৯৭৪ নম্বর দিয়ে শেষ হওয়া অন্য একটি অ্যাকাউন্টে। বিষয়টি জানার পরেই লতিকা বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, অবিলম্বে তদন্ত করে ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়া বন্ধ করা হোক এবং প্রকৃত প্রাপকের হাতে সেই ভাতার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হোক। লতিকা বলেন, ‘যখনই খোঁজ নিয়েছি, বলা হয়েছে আবেদন পেন্ডিং রয়েছে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সাল থেকেই টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমার অ্যাকাউন্টে তো কোনও টাকাই আসেনি। কী ভাবে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা গেল, বুঝতে পারছি না।’

    জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, অভিযোগটি তাঁদের নজরে এসেছে। ঘটনার সত্যতা এবং কী ভাবে এটা ঘটল তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Link to this news (এই সময়)