শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। পুরসভা সূত্রে খবর, তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ আরও এক বছর ছিল। তার আগে বর্ষার মরসুম চলাকালীন মেয়র ইস্তফা দেওয়ায় শহরের পুর পরিষেবা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন গৌতম। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মেয়র পারিষদদের একাংশ তা চাননি। কিন্তু গৌতম নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। ইস্তফা দেওয়ার পরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান রাজ্য সরকারের সব কাজই আমি করেছি। এর পরেও আমার মনে হয়েছে কোথাও ছন্দপতন হচ্ছে। কোনও বিদ্বেষের মনোভাব নিয়ে এই পদ ছাড়ছি না। নতুন রাজ্য সরকারকে শুভেচ্ছা।’
গৌতমের ইস্তফা নিয়ে শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘উনি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, তা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি, মেয়র পারিষদদের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতানৈক্য ছিল। তবে এটুকু বলতে পারি, আমার পক্ষে ওঁকে যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব ছিল, তা আমি করেছি।’
২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হয়েছিলেন গৌতম। ২০১৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীও হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে যান গৌতম। এর পরে তিনি পুরভোটে দাঁড়িয়ে জেতেন। শিলিগুড়ির মেয়রও হন। ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী শঙ্করের কাছে হেরে যান গৌতম। তাঁর দল তৃণমূলও ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। রাজ্য পালাবদল ঘটে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পর থেকেই একের পর একে পুরনিগম ও পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। কলকাতার মেয়র পদ থেকে আগেই পদত্যাগ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। এ বার মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতমও।