• সরকারি মদতে তৃণমূল 'তাসের ঘর', বিস্ফোরক অধীর
    আজকাল | ১৯ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে, গুঁড়িয়ে, দুর্বল করার মানসিকতা নিয়ে কোনও একটি শক্তি কাজ করছে এবং তার নেপথ্যে রয়েছে সরকারি মদত। শুক্রবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর লোকসভার প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। 

    এদিন বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী বলেন,"ক্ষমতার জন্য যাঁরা তৃণমূল করত তাঁরা তৃণমূল সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গ ছেড়ে পালিয়েছেন। মমতা ব্যানার্জিকে ছেড়ে তাঁরা যেখানে গিয়েছেন, সেখানে বিভিন্ন জিনিস ওই নেতাদেরকে দিতে বলছে। এই কাজের জন্য পেছন থেকে কোনও শক্তি কাজ করছে। আমার ধারণা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভেঙে, গুড়িয়ে, দুর্বল  করার মানসিকতা নিয়ে কোনও সরকারি শক্তি এই কাজ করছে। তারা তৃণমূল কংগ্রেসকে ধনে-প্রাণে মারার চেষ্টা করছে, এগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ।" তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, "তিনি দেখুন কাদের নিয়ে এতদিন সংসার করেছেন। মমতা ব্যানার্জির দুর্ভাগ্য কাছের লোকেদেরকে তিনি চেনেন না, তোষামোদকারীদের তিনি চেনেন।" রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক সময় মমতা ব্যানার্জির 'নয়নের মনি' ছিলেন বলে দাবি করে অধীর চৌধুরী বলেন,"তোষামোদকারীদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও গুরুত্ব দিতে গিয়ে একদিন তিনি নিজের 'লেফটেন্যান্ট জেনারেল' শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়েছিলেন।" এদিন অধীর চৌধুরী তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ ও বিধায়কদেরও এক হাত নেন। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের 'প্রাক্তন' তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ (বর্তমানে এনসিপিআই দলের সঙ্গে যুক্ত) আবু তাহের খানের নাম করে অধীর চৌধুরী বলেন, "আমাদের দয়াতেই উনি বিধায়ক, সাংসদ হয়েছেন। তৃণমূলের জামানায় কংগ্রেস নেতারা আমাদের দল ছেড়ে তৃণমূলে গেলে বলতো উন্নয়নের জন্য যাচ্ছে। এখন বিজেপিতে গিয়েও তাঁরা বলছে উন্নয়নের জন্য যাচ্ছে। এখন এই উন্নয়ন নিজের পকেটের হচ্ছে ,না জনগণের সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয় এই নেতাদের নিজেদের পকেটের উন্নয়ন হচ্ছে।"

    অন্যদিকে অধীর চৌধুরী আজ ফের একবার বহরমপুর পুরসভার পদত্যাগী চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জিকে তীব্র আক্রমণ করেন। অধীর চৌধুরী বলেন, "উনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। মানুষের চাপে, সরকার পরিবর্তন হয়েছে তাই পদত্যাগ করেছেন। অন্য জায়গায় গ্রেপ্তার হয়, তদন্ত হয়, জেল হয় এখানে তাঁকে রক্ষা করার ব্যবস্থা হয়েছে।"

    বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রর নাম না করলেও তাঁকে নিসানা করেন অধীর  চৌধুরী। তিনি বলেন,"এখানকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দুর্নীতিগ্রস্থ চেয়ারম্যানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তাই চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেই জনপ্রতিনিধিকে তাঁর কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। তবে মনে রাখবেন বহরমপুরের মানুষ এই জিনিস মানতে চায়নি। তাই সরকার বাধ্য হয়েছে এবং এই চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। এই পদত্যাগ স্বেচ্ছায় নয়। নৈতিকতার প্রশ্নেই যদি চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতেন তাহলে ভোটের ফল প্রকাশের পর এতদিন অপেক্ষা করতেন না।" প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আরও বলেন, "রাজ্য সরকার পরিবর্তন হয়েছে বলেই পুরসভার চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে হবে এমন কোনও  নিয়ন-নীতি নেই। মানুষ এদের পাঁচ বছরের জন্য পুরসভা চালানোর দায়িত্ব দিয়ে জিতিয়েছিল কিন্তু পুলিশ। সরকার ধরবে বলে এখন ভয়ে পালাচ্ছে। এরা সরাসরি আত্মসমর্পণ করেছে।" বহরমপুর পুরসভায় তৃণমূল আমলে হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির ফিরিস্তি দিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, "পুরসভার বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে আমি বহু জায়গায় চিঠি লিখেছি। কিন্তু তদন্ত কেন হচ্ছে না? আমরা বাম এবং তৃণমূলের আমলেও বিরোধিতা করেছি, এই সরকারের আমলেও বিরোধিতা করব।" অন্যদিকে বহরমপুর পুরসভার বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চেয়ে বৃহস্পতিবারই রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। নিজের চিঠিতে তিনি রাজ্যের মন্ত্রীকে বহরমপুর পুরসভার ২০০৮-২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশেষ অডিট করতে অনুরোধ করেছেন।"

    অধীর চৌধুরী বলেন, "অডিট তো প্রতিবছরই হয়। তবে ২০০৮ সাল থেকে কেন তদন্ত হবে? ২০০৮ সালে বহরমপুর পুরবোর্ড কংগ্রেস চালিয়েছে। আমি দাবি রাখছি কংগ্রেস যবে থেকে বহরমপুর পুরসভা চালিয়েছে অর্থাৎ ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক অর্থ বর্ষের অডিট করে তদন্ত হোক, তাহলেই আমি খুশি হব।" জেলা বিজেপি নেতা শাঁখারভ সরকার বলেন ,"অধীর চৌধুরী একসময় কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। সকলেই জানে কংগ্রেসের গর্ভে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম। তাই তৃণমূলের দুর্দিনে তাঁর এত দরদ ফুটে উঠেছে।"
  • Link to this news (আজকাল)