করোনার সময় কমিউনিটি কিচেন খুলেছিল সিপিআইএম। তাতে উপকৃত হয়েছিলেন অনেকেই। আর সেই ট্রেন্ড বজায় রেখে ফের একবার কমিউনিটি কিচেন খুলল তারা। যদিও এবার কারণ একবারেই আলাদা। রেলের দ্বারা উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পাশে দাঁড়াতেই তারা এই কমিউনিটি কিচেন খুলেছে হাবড়ায়। আর শুধু হাবড়া নয়, আরও কয়েকটি জায়গায় এই ধরনের কমিউনিটি কিচেন করার প্ল্যানিং চলছে বলে জানালেন সিপিআইএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'হ্যাঁ হাবড়াতে আমরা চালু করেছি কমিউনিটি কিচেন। যতদিন পারব চালিয়ে যাব।'
তাঁর অভিযোগ, 'হাবড়াতে যেভাবে হল উচ্ছেদটা, সেই কারণেই কমিউনিটি কিচেন করা হচ্ছে। দমদমেও আমাদের একটা ভাবনা ছিল কমিউনিটি কিচেনের। দমদম ও হাবড়াতে আমাদের যাঁরা পার্টি কমরেড, তাঁরাও অনেক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।'
পাশাপাশি তাঁর মতে, হকাররা ভিখারি নয়। তাই রেলকেই উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দিতে হবে সঠিক পুনর্বাসন।
গার্গী বলেন, 'হঠাৎ রেল ঠিক করল উচ্ছেদ করে দেবে সব হকারদের। নোটিশ দিয়ে শুরু করে দিল। কোথাও বুলডোজার কোথাও জেসিবি। কোথাও কোথাও ৭ দিন দিচ্ছে, কোথাও ১০ দিন দিচ্ছে, কোথাও ১৫ দিন সময় দিচ্ছে। এটা কোনও পদ্ধতি না। এতদিন ধরে এরা হকারি করছে। এতদিন ধরে রেল সংলগ্ন বাজার রয়েছে। ৫০ বছর ৬০ বছর ধরে সে বাজার। কোথাও বাজারের ১০০ বছর বয়স। তারপরে রেল কলোনিগুলোর কথা ধরুন, সেগুলি উচ্ছেদ করে দিচ্ছে।'
এমতাবস্থায় পার্টির পক্ষ থেকে শিয়ালদার ডিআরএম ও হাওড়া ডিআরএম এর কাছে যাওয়া হয়েছে। রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছেও যাওয়া হয়েছে। পার্টির বক্তব্য ছিল, পুনর্বাসন দেওয়া হোক। হকারদের লাইসেন্স দেওয়া হোক। পাশাপাশি পার্টি চেয়েছে একটা সার্ভে করা হোক। কিছু পয়সা দিয়ে হকাররা লিজ নিয়ে দোকান নিক। কিন্তু সেই কথা রেল শোনেনি বলেই জানালেন গার্গী।
বরং তাঁর অভিযোগ, 'রেল কথা শুনল না। অনেক জায়গাতেই দেখা গিয়েছে বুলডোজার এবং কৃষ্ণনগরে জল কামান এসেছে। দমদমে সাজোঁয়া গাড়ি এসেছে। বুলডোজার, পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী- কি নামায়নি? লাঠি চার্জ হয়েছে।'
আগামিদিনে কী প্ল্যান?
গার্গী জানালেন, পার্টি ইতিমধ্যেই কোর্টে গিয়েছে। আপাতত কয়েকটি স্টেশনে স্টে অর্ডার রয়েছে। এরপর সব স্টেশনেই কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের জন্যও লড়াই হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'দমদমের ক্ষেত্রে মামলা করছি ক্ষতিপূরণের। অন্যান্য স্টেশনেও করা হবে। এখন পুনর্বাসন লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।'
সেই সঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার দায়িত্বও কিছু জায়গায় নিয়েছে পার্টি। আরও কিছু জায়গায় এমন কথা চলছে বলে জানালেন গার্গী।