কাঁচরাপাড়া স্কুলে টাকার খনি! দেড় কোটিরও বেশি উদ্ধারের পরেও মিলল ‘গুপ্তধন’
প্রতিদিন | ১৯ জুন ২০২৬
প্রথম দফায় তল্লাশিতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। সেই সময় কাঁচরাপাড়ার (Kanchrapara) বেসরকারি স্কুল থেকে উদ্ধার হয় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। কীভাবে এত টাকা এল, তার উৎস নিয়ে রয়েছে হাজারও প্রশ্ন। পাঁচদিন পর সেই স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। স্কুলে কোথা থেকে এত টাকা আসল, তা নিয়ে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।
গত ১০ জুন রাতে কাঁচরাপাড়ার ওই বেসরকারি স্কুলে প্রথমবার বীজপুর থানার পুলিশ হানা দেয়। তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাকড়াও করা হয় স্কুলের অ্যাকাউন্ট্যান্ট অভীক নাগ এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন পালকে। ধৃত দু’জনকে জেরা করে পুলিশ ওই স্কুলে ‘গুপ্তধনে’র সন্ধান পায়। এরপর গত ১৫ জুন ফের দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ওই স্কুলে যায়। আবারও শুরু হয় তল্লাশি। দ্বিতীয় দফার তল্লাশিতে ফের উদ্ধার হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। নতুন করে ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। স্কুলের ভিতরে কীভাবে এত টাকা আসছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ধৃতদের আরও জেরা করে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে বলেই আশা তদন্তকারীদের।
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস স্কুলে সঞ্চিত ‘গুপ্তধনে’র নেপথ্যে কাঁচরাপাড়ার পুরপ্রধান কমল অধিকারীকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “শুধু একটা স্কুলে নয়, আমার ধারণা আরও অনেক জায়গায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ওরা টাকা রেখেছে। যে জায়গা ওরা নিরাপদ মনে করেছে। এবং যেখানে কারও নজর পড়বে না, সেখানেই টাকা রাখা হয়েছে। না হলে একটা স্কুলে কীভাবে এত টাকা থাকতে পারে না।” তাঁর দাবি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কমল অধিকারী হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ‘কালো টাকা’র সন্ধান পাওয়া যাবে।