• কারও ঘুম ভাঙেনি, কারও মোবাইল পড়ে গিয়েছে! আজব কারণে ট্রেনে চেন টেনে ধৃত ৫৮
    প্রতিদিন | ১৯ জুন ২০২৬
  • কেউ পরিজনকে ট্রেনে তুলতে এসে ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। নামতে পারেননি। কেউ আবার ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে নির্দিষ্ট সময়ে নামতে পারেননি। যখন ঘুম ভেঙেছে, ততক্ষণে ট্রেন বহুদূর। তাই আচমকাই কোনও স্টেশন দেখে অ্যালার্ম চেন টেনে ট্রেন থামিয়েছেন। পূর্ব রেলের এলাকায় শুধু মে মাসেই অদ্ভুত সব কারণে চেন টানায় ৮৬টি ট্রেনকে আটকে থাকতে হয়েছে। পূর্ব রেল জানিয়েছে, সবথেকে বেশি হয়েছে আসানসোল ও হাওড়া ডিভিশনে। আরপিএফের তদন্তে দেখা গিয়েছে, যাত্রীরা অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে ট্রেনের জরুরি চেন টেনেছেন, যার ফলে এক্সপ্রেস ট্রেন মাঝপথে আটকে ছিল। যার জেরে ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

    তথ্য বলছে, আসানসোলে ও মালদহ ডিভিশনে ৪ জন করে যাত্রী ট্রেনের নির্ধারিত স্টপেজের তোয়াক্কা না করে, ট্রেনটি তাঁদের নিজেদের গ্রাম বা বাড়ির কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় জরুরি চেন টেনে দেন। আসানসোল ও হাওড়ায় যথাক্রমে ৩ জন ও ২ জন যাত্রী দেরিতে ঘুম থেকে উঠে দেখেন যে, তাঁদের গন্তব্য স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে, আর তখনই নিজেদের ভুল এড়াতে তাঁরা তড়িঘড়ি চেন টেনে বসেন। মোট ১০ ক্ষেত্রে যাত্রীরা ভুলবশত এই চেন স্পর্শ করে ফেলেন। এছাড়াও আসানসোলে ২টি ঘটনায় যাত্রীরা চেনের হুঁকে তাঁদের ভারী লাগেজ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।

    আসানসোলে ২ জন যাত্রী শুধুমাত্র তাঁদের আত্মীয়দের বিদায় জানাতে কামরায় উঠেছিলেন এবং ট্রেন চলতে শুরু করার আগে নামতে না পারায় চেন টেনে দেন। আবার আসানসোলে ৪ জন এবং হাওড়ায় ২ জন যাত্রী ভুল ট্রেনে উঠে পড়ার পর চেন টানেন। এই ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনার ফলে মোট ৮৬টি ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে, যার গড় সময় আসানসোলে ১৩ মিনিট, হাওড়ায় ১৪ মিনিট এবং মালদহ ও শিয়ালদহ ডিভিশনের কিছু সেকশনে প্রতি ঘটনায় সর্বোচ্চ ১৭ মিনিট পর্যন্ত পৌঁছেছিল। দোষী সাব্যস্ত যে কোনও ব্যক্তির সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, ” অকারণে ট্রেনের চেন টানা অপরাধ।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)