আরও একা মমতা! এবার দলের সব পদ ছাড়লেন ‘দিদির প্রিয়’ জ্যোতিপ্রিয়
প্রতিদিন | ১৯ জুন ২০২৬
সময় যত এগোচ্ছে, তত একা হয়ে পড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছাব্বিশের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে যাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন নেত্রী, এবার দলের যাবতীয় পদ ছাড়লেন সেই জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালুকে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল। সপ্তাহ পেরনোর আগেই ইস্তফা দিলেন তিনি।
১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি। নেত্রীও তাঁকে ভরসা করেছেন। একাধিকবার টিকিট দিয়েছেন। বিধায়ক-মন্ত্রিত্ব সবই পেয়েছেন। পরবর্তীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলযাত্রা হওয়ার পরও সেই ভরসা অটুটই ছিল। বারবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বালুকে ফাঁসানো হয়েছে।’ ছাব্বিশে হাবড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আমার মন্ত্রিসভায় বালু সবথেকে ভালো কাজ করেছে।” দুর্নীতির অভিযোগে জেলখাটা বালুকে এবারও টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। যদিও জিততে পারেননি। তারপর থেকে সে অর্থে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি জ্যোতিপ্রিয়কে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থা ছিল, এই দুর্দিনে বালু সঙ্গ ছাড়বে না। তাই গত শনিবারই বালুকে দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করেন নেত্রী।
কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে গেল ছবি। সদ্য পাওয়া পদ-সহ দলের যাবতীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন আচমকা এই সিদ্ধান্ত? প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” তৃণমূলের জাহাজ ডুবেছে, আর মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই বুঝেই এই পদত্যাগ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।