আর জি কর কাণ্ডে বিনীত গোয়েলকে সিবিআই তলব, ইন্দিরা-সহ ২ সাসপেন্ডেড আইপিএসের বয়ান রেকর্ড
প্রতিদিন | ১৯ জুন ২০২৬
আর জি করের অভিশপ্ত রাতের ঘটনার প্রমাণ লোপাট, প্রকৃত অভিযুক্তকে আড়াল করার অভিযোগ ওঠে তিন ‘দুঁদে’ আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে। নতুন করে তদন্ত শুরুর পর তদন্তকারীদের স্ক্যানারে সেই তিন আধিকারিক। ইতিমধ্যে তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। শুক্রবার তাঁদের বেশ কয়েকঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বেশ কিছু নথিও সংগ্রহ করা হয় বলেই সূত্রের খবর। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকেও আগামী সপ্তাহে তলব করা হয়েছে। তিনজনের থেকে পাওয়া নথি খতিয়ে দেখা হবে বলেই খবর।
গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাঁকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীকালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কাউকে পাকড়াও করেনি। শেষমেশ শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে এই তদন্তে সন্তুষ্ট নন অভয়ার বাবা-মা। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত যারা এখনও তদন্তের আড়ালে রয়ে গিয়েছে।
বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের নতুন করে আর জি কর ফাইলস খোলেন। এরপরেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও মন্ত্রী তাঁদের মেসেজে কিংবা ফোনে কোনও নির্দেশিকা জারি করেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার মধ্যেই সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কী হয়েছিল, সেই ঘটনাক্রম নির্দিষ্ট করে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ইতিমধ্যেই জেরা করে সিবিআই। দাহ করার সময় ঠিক কী ঘটে তা জানতে শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে প্রায় মিনিট ২০ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই দাহ করা হয় নির্যাতিতার দেহ। এবার এই ঘটনার তদন্তে সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিন সাসপেন্ডেড আইপিএস আধিকারিক।