বিনা বেতনের তিন পাহারাদার! জলপাইগুড়ির দোকানে বকের অবাক করা দায়িত্ব! অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন বক আবার পাহারাদার? হ্যাঁ, জলপাইগুড়ির মাংসের দোকানে বকের এমনই নজিরবিহীন বন্ধুত্ব হৃদয় স্পর্শ করবে আপনারও। জলপাইগুড়ি শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক অদ্ভুত অথচ মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে।
একটি ছোট্ট মাংসের দোকান আর তার সামনে প্রতিদিন নিয়ম করে হাজির তিন ‘কর্মচারী’। তবে তারা মানুষ নয়, তিনটি বক! দোকান খোলার আগেই তারা এসে বসে পড়ে। সারাদিন চুপচাপ পাহারা দেয় দোকানটিকে। দেখতে যেন ঠিক বিনা বেতনের নিরাপত্তারক্ষী! দোকানের মালিক দুলাল মিত্রের সঙ্গে তাদের এই অদ্ভুত বন্ধুত্ব আজ প্রায় চার বছরের। একসময় বকের সংখ্যা ছিল চার। কিন্তু একটি বক মারা যাওয়ার পর এখন বাকি তিনজনই প্রতিদিন হাজিরা দেয়।
আরও অবাক করার বিষয়, দুলালবাবু খাবার না দিলে তারা কখনও দোকানের মাংসে মুখ দেয় না। কোনও কিছু নষ্টও করে না। দোকানে মুরগি রাখার জায়গার পাশেই শান্তভাবে বসে থাকে তারা। দুলালবাবু নিজেও জীবনের লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ। দুর্ঘটনায় একটি পা হারানোর পরও তিনি মাংসের দোকান চালিয়ে সংসার সামলাচ্ছেন। আর এই তিন বক যেন তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। দোকান বন্ধ থাকলেও ফ্রিজে রাখা মাংস থেকে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন তিনি।
প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে যায় এলাকায়। কেউ ছবি তোলে, কেউ ভিডিও করে…আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এই বিরল বন্ধুত্বের গল্প। অবলা প্রাণীর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালবাসা যে শুধু কথায় নয়, কাজে প্রকাশ পায় তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ দুলাল মিত্র ও তাঁর তিন সঙ্গী বক।