• মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তুলে দিতে চান শিল্পী
    News18 বাংলা | ১৯ জুন ২০২৬
  • : অভাব আছে, সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু থেমে নেই শিল্পচর্চা। নিজের রোজগারের অর্থ থেকে সামান্য সামান্য করে টাকা বাঁচিয়ে ফাইবার গ্লাসে একের পর এক ভাস্কর্য গড়ে চলেছেন শিলিগুড়ির শান্তিনগরের বাসিন্দা স্বপন কুমার খাঁ। পেশায় শিল্পী ও ভাস্কর এই মানুষটির কাছে মূর্তি তৈরি শুধুই পেশা নয়, এটি তাঁর নেশা, ভালবাসা এবং আত্মপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। বর্তমানে তিনি তৈরি করছেন জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি ফাইবার গ্লাসের মূর্তি, যা তিনি বিক্রি করতে চান না, বরং উপহার হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

    শিল্পের প্রতি ভালবাসা স্বপনবাবুর জীবনে নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ছিল প্রবল আকর্ষণ। পরিবারের বকুনি উপেক্ষা করেও তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে আর্ট কলেজে পড়াশোনা করেন এবং গত প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে শিল্প ও ভাস্কর্যের জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। ফাইবার গ্লাস দিয়ে বাস্তবধর্মী মূর্তি নির্মাণে তাঁর দক্ষতা ইতিমধ্যেই বহু মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    কিছুদিন আগেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জির হাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফাইবার গ্লাসের মূর্তি তুলে দেন। প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ পরিশ্রমে তৈরি সেই মূর্তিটি বিধায়িকার কাছে বিশেষ উপহার হিসেবে পৌঁছে দেন তিনি। এবার আরও বড় উদ্যোগ নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে তৈরি করছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি। নিখুঁত কারুকাজে তৈরি এই ভাস্কর্য ইতিমধ্যেই এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    স্বপন কুমার খাঁ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমার অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব। শিখা চ্যাটার্জিকেও আমি শ্রদ্ধা করি, তাই তাঁদের জন্য বিশেষ উপহার তৈরি করেছি। এবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করছি। আমার খুব ইচ্ছে এই মূর্তিটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার। কীভাবে তাঁর কাছে পৌঁছব জানি না, তবে আশা রাখছি একজন সাধারণ শিল্পীর আবেগ ও পরিশ্রমের এই উপহার তিনি গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি আমি চাই সরকার ভাস্কর ও মৃৎশিল্পীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করুক।”

    আজকের দিনে যখন শিল্পচর্চা অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে, তখন স্বপনবাবুর মতো শিল্পীরা নিজের আবেগ, নিষ্ঠা এবং ভালবাসাকে সম্বল করেই এগিয়ে চলেছেন। লাভ-লোকসানের হিসাব নয়, শিল্পের প্রতি অগাধ টানই তাঁকে নতুন নতুন সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই মূর্তি শুধু একটি ভাস্কর্য নয়, বরং একজন সাধারণ শিল্পীর অসাধারণ স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং শিল্পপ্রেমের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)