• BJP-তেও বেইমানি! দলে ‘বিভীষণ’দের উদয় হতেই খড়্গহস্ত নিতিন নবীন, তলব রাজ্য সভাপতিকে
    এই সময় | ১৯ জুন ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসে বিবিধ ভাঙনের দৌলতে বঙ্গ তথা জাতীয় রাজনীতিতে এখন ‘বেইমান’ বা ‘গদ্দার’-এর মতো বিশেষণগুলি ট্রেন্ডিং। ব্যাপক চর্চিত এই দুই শব্দ। কারা কারা বেইমান, আর কাদের সঙ্গে গদ্দারি হয়েছে, তা নিয়ে ব্যাপক চর্চা চলছে। এ বার সেই একই ‘রোগ’-এর প্রাদুর্ভাব দেখা গেল পদ্মশিবিরেও। কর্নাটকের বিধান পরিষদ (MLC) নির্বাচনে কিছু BJP বিধায়কের বিরুদ্ধে উঠেছে ক্রস-ভোটিং অর্থাৎ, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ। এর জেরে এখন চরম অস্বস্তিতে BJP। দলের অন্দরে এই ‘বিভীষণ’দের উদয়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

    সংবাদসংস্থা PTI সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্নাটকে দলীয় বিধায়কদের এই অপ্রত্যাশিত ক্রস-ভোটিংয়ের জেরে চরম ক্ষুব্ধ BJP সভাপতি নিতিন নবীন। এই ‘বেইমানি’র জবাবদিহি চাইতে তিনি কর্নাটক BJP-র রাজ্য সভাপতি বিজয়েন্দ্র ইয়েদুরাপ্পা এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের ২৩ জুন দিল্লিতে তলব করেছেন। বিজয়েন্দ্র জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অমান্য করে যাঁরা বিরোধী শিবিরকে সাহায্য করেছেন, সেই সব বিধায়কদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

    বৃহস্পতিবার কর্নাটক বিধানসভায় ৭টি MLC আসনের ভোটগ্রহণ ও গণনা হয়। ৫টি আসনে জয়লাভ করে শাসকদল কংগ্রেস। বিধানসভায় কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের পক্ষে ১৪০ জন বিধায়ক আছেন। এতে কংগ্রেসের ৪ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে কংগ্রেসের পক্ষে ১৫১টি ভোট পড়ায় তাদের পঞ্চম প্রার্থীও জয়ী হয়।

    অন্যদিকে BJP-র দুই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত ছিল। তাঁরা জিতেছেনও। এর পরে তাদের উদ্বৃত্ত ভোটের সঙ্গে JD(S)-এর নিজস্ব ভোট যোগ করে জেতার কথা ছিল JD(S)-এর একমাত্র প্রার্থীর। কিন্তু তাঁর জেতা হয়নি। বদলে জিতেছেন কংগ্রেসের পঞ্চম প্রার্থী।

    দলীয় বিধায়করা যে ক্রসভোটিং করেছেন, তা মেনে নিয়েছেন রাজ্য BJP সভাপতি বিজয়েন্দ্র ইয়েদুরাপ্পা। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা JD(S) প্রধান, এইচ ডি কুমারস্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই তারা NDA জোটের তৃতীয় প্রার্থী দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের দিন JD(S)-এর ৬-৭ জন এবং BJP-র ৪-৫ জন বিধায়ক কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া BJP-র এক বিধায়কের ভোট বাতিলও হয়েছে।

    বিজয়েন্দ্রর হুঁশিয়ারি, ‘দলের সঙ্গে যারা বেইমানি করেছে, তাদের কোনও ভাবেই ক্ষমা করা হবে না। আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সময় চেয়েছি, পুরো বিষয়টি তাদের জানাব।’

    ২৩ জুন দিল্লিতে BJP সভাপতি নিতিন নবীনের দরবারে এই বেইমানির ব্যাখ্যা দিতে হবে। কেন এই ফাটল? কাদের মদতে এই বেইমানি? কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সব মিলিয়ে কর্নাটকের এই অন্তর্কলহ BJP-কে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিল।

  • Link to this news (এই সময়)