‘নির্ভয়া’র পরিণতিতে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। ২০১২ সালে দিল্লির সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়েছে বিহারের বেগুসরাইয়ের ভয়ঙ্কর ঘটনা। এক মহিলার স্বামীকে আটকে রেখে তাঁকে গণধর্ষণের পরে নারকীয় অত্যাচার দুষ্কৃতীদের। অভিযোগ, সেই ঘটনার কথা জানতে পেরেও কোনও অ্যাকশন নেয়নি পুলিশ। এই নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের জেরে বিহার পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল শৈলেশ কুমারকে ইতিমধ্যেই বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিহারের বেগুসরাই জেলায় এক মহিলার উপর দুষ্কৃতীদের পাশবিক অত্যাচার চালানোর কথা সম্প্রতি সামনে আসে। গত ১১ জুন বেগুসরাইয়ের চাকিয়া থানা এলাকায় রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ এক বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বাড়িতে থাকা তরুণকে ঘরে আটকে রেখে তাঁর স্ত্রীকে তারা অন্যদিকে টেনে নিয়ে যায়। পাঁচ দুষ্কৃতী তাঁকে গণধর্ষণ করে এবং পাশবিক অত্যাচার চালায়। ধর্ষণে বাধা দিলে ওই মহিলার বুক ও উরু ব্লেড দিয়ে চিরে দেওয়া হয়। অত্যাচারে জ্ঞান হারান ওই মহিলা। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁর যোনি থেকে পাথর, ধারালো কাঠের টুকরো ও বুলেটের মতো জিনিস বার করেন।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে তাঁকে ১২ জুন ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর নিম্নাঙ্গে মারাত্মক যন্ত্রণা হতে থাকায় আলট্রাসাউন্ড করে দেখেন চিকিৎসক। তাতেই জানা যায় দুষ্কৃতীদের সীমাহীন বর্বরতার আসল চেহারা।
অভিযোগ, ১৩ জুন থানায় এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগের জেরেই সাময়িক ভাবে বরখাস্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল শৈলেশ কুমার। যদিও DIG গত ১৭ জুন জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে পুলিশ।
রাম বাবু নিষাদ, সুরজ কুমার এবং নীতীশ কুমার নামে তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। বাকি দুই দুষ্কৃতীকে তাঁরা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে জানান।
নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, মার্চ মাসেও তাঁদের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা হয়। সে বার টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে তারা তাঁকে যৌন নির্যাতনেরও চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার অনুমান, সে বারও এই দুষ্কৃতীরাই বাড়িতে ঢুকে জিনিস চুরি করেছিল। নির্যাতিতার এই অভিযোগের কোনও উত্তর দেয়নি পুলিশ প্রশাসন।