• বিজেপি বিধায়কের সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য
    আজকাল | ২০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৪ ঘণ্টাও হয়নি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নাড়ুগোপাল মুখার্জি। কিন্তু তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থামছে না। একদিকে যেমন অধীর চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে এবার নাড়ুগোপালের ‘পাশে’ দাঁড়ালেন বিজেপির জঙ্গিপুরের বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি। নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় শুক্রবার বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা চিত্ত মুখার্জি লিখেছেন, “নাড়ু বাবুকে নিয়ে আগামী দিন রাষ্ট্রবাদীদের কোনও বিপদ নেই।”

    শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, “বহরমপুরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (পড়ুন বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র) বহরমপুর পুরসভার দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যানকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মানুষ এবং সরকারের চাপে বাধ্য হয়ে  চেয়ারম্যান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। উনি স্বেচ্ছায় নিজের চেয়ার ছাড়েননি।” যদিও অধীর যখন এই দাবি করছেন প্রায় একই সময়ে বহরমপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বসে জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় লিখে বসলেন, “আমার কম্পিউটার বলছে নাড়ু বাবুকে নিয়ে আগামী দিনে রাষ্ট্রবাদীদের কোনও বিপদ নেই। বিপদ ঐ ভোটোন্মাদ, হুমায়ূনবন্ধু চৌধুরী কে নিয়ে (বিধায়কের পোস্ট করা বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা চিত্ত মুখার্জির সমাজ মাধ্যমের পাতায় এই বক্তব্য আগামী দিন নাড়ুগোপাল মুখার্জির পক্ষে বিজেপির দরজা খুলে দিতে সহায়ক হলো। সমাজমাধ্যমের পাতায় নাড়ুগোপালকে নিয়ে লেখা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ার জন্য চিত্ত মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মৌলবাদী শক্তিকে এক প্রাক্তন সাংসদ (পড়ুন অধীর চৌধুরী) যতটা সমর্থন করছেন ততটা সমর্থন কিন্তু নাড়ুগোপাল মুখার্জি করছেন না। নাড়ুবাবুর অনেক দোষ গুণ থাকতে পারে। একটি নির্বাচনের সময় সাগরদিঘির দায়িত্বে এসে তিনি অনেক গাজোয়ারি করেছিলেন। আমাদের দলের লোকেদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত কোনওক্রমে এড়ানো গিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই সময়ে যা করেছিলেন সবটাই নিজের দলের জন্য।”

    তিনি বলেন, “কিন্তু বহরমপুরের এক প্রাক্তন সাংসদকে (পড়ুন অধীর চৌধুরী) আমরা দেখেছি বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে। তা সে বাজারশো-শক্তিপুরের ঘটনাই হোক অথবা ভোটের জন্য হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে হাত মেলাতে। উনি ভোটে জেতার জন্য মৌলবাদী শক্তিকেও সমর্থন করতে রাজি। আমার ধারণা ওই ব্যক্তি যদি আবার কোনওদিন সুযোগ পান তাহলে তিনি রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির একজন হয়ে থাকবেন।”

    তবে নাড়ুগোপালকে বিজেপি দলে এখনই নেওয়া হবে কিনা সেই বিষয় নিয়ে চিত্ত কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ওঁর বিরুদ্ধে বহু রকমের অভিযোগ রয়েছে। ওঁর বিষয়ে আমাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য নেতৃত্ব ভাববেন। সেই বিষয়ে আমার কোনও কিছু বলার নেই। তাঁরা যদি মনে করেন দলে নিতে পারেন।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়কের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন বহরমপুর পুরসভার সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল। তিনি বলেন, “আমি তৃণমূল দলে থাকলেও মানসিকভাবে আমি দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি-র সঙ্গে। ২০১৭ সালে যখন সৌমিক হোসেন(প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক) একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হয়েও বহরমপুরের দুর্গাপুজোগুলিকে দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করেছে সেই সময় আমি প্রতিবাদ করেছি। শাসক দলে থেকেও আমি চেষ্টা করেছি আমার সম্প্রদায়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার।”

    তিনি বলেন, “শক্তিপুরের একটি ঘটনায় যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল সেই সময় আমি সারারাত হাসপাতালে থেকে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। তৃণমূল কংগ্রেস যে তোষণের রাজনীতি করতো তার থেকে সরে এসে আমি সব সময় চেষ্টা করেছি বহরমপুর শহরের হিন্দুদেরকে সুরক্ষিত রাখার।”

    বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন যদিও বলেন, “নাড়ুগোপাল মুখার্জিকে নিয়ে বিজেপির বিপদ কেন হতে যাবে? উনি আমাদের দলের কেউ না। এমনকি অধীর চৌধুরী বা হুমায়ুন কবীরকে নিয়েও আমাদের কোনও বিপদ নেই। কারণ এই রাজ্যে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আমার জানা নেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে এই ব্যক্তিদের কোনও বিপদের কারণ আছে কিনা।”
  • Link to this news (আজকাল)