• ভাইপোর দিকে অভিযোগের আঙুল অভয়ার মায়ের
    আজকাল | ২০ জুন ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটার পরেই আরজি কর হাসপাতালের সেই তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও মর্মান্তিক খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন করে প্রবল গতি এসেছে। প্রমাণ লোপাট এবং প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার মারাত্মক অভিযোগে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তৎকালীন তিন শীর্ষ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে বর্তমান সরকার। এবার এই ঘটনার জট সম্পূর্ণ খুলতে এই পুলিশকর্তাদের তলব করল সিবিআই। শুক্রবার সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তা। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁদের জেরা করার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে আগামী সপ্তাহে তলব করা হয়েছে।

    সিবিআই সূত্রে খবর, ওই রাতে পুলিশকর্তাদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও প্রভাবশালী মন্ত্রী তাঁদের ফোনে বা মেসেজে কোনও গোপন নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা জানতে কল রেকর্ড ও মেসেজ পরীক্ষা করা হতে পারে বলে খবর। তিন আইপিএস অফিসারের কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত নথি একে অপরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    পাশাপাশি, তরুণীর শেষকৃত্য নিয়ে যে বিরাট ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তারও সুস্পষ্ট উত্তর খুঁজছে সিবিআই। তড়িঘড়ি কেন এবং কার নির্দেশে দেহ দাহ করা হল, তা জানতে ইতিমধ্যেই পানিহাটির তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষকে জেরা করা হয়েছে। দাহ করার সময় শ্মশানে ঠিক কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট করতে পানিহাটি শ্মশানের ইনচার্জ এবং ডোমকেও পুঙ্খানুপুঙ্খ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    এরই মধ্যে গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করে দাবি করেছেন, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির  ভাইপো আবেশ ব্যানার্জি সরাসরি যুক্ত। অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ঘটনার দিন টালা থানায় তাঁদের দু’ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা হয়েছিল। সেই সময় তাঁদের বাড়ির সামনে মেয়ের মৃতদেহ বেওয়ারিশ লাশের মতো ফেলে রাখা হয়। তৎকালীন ডিসি নর্থের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরেই, পরিবারের কোনও লিখিত অনুমতি ছাড়াই কয়েকজন তৃণমূল নেতার উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি দেহ দাহ করা হয়। এমনকী ময়নাতদন্ত হওয়া একটি দেহ শ্মশানের যে জায়গায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের সঙ্গে সঙ্গে আরজি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলায় আশায় বুক বাঁধছেন রাজ্যবাসী। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের নাম জড়ানো এবং অন্যদিকে শীর্ষ পুলিশকর্তাদের বয়ান যাচাই— সবদিক থেকে তদন্তের জাল গুটিয়ে এনে প্রকৃত অপরাধীরা এবার কড়া শাস্তি পাবে বলেই বিশ্বাস নির্যাতিতার পরিবারের।
  • Link to this news (আজকাল)