আজকাল ওয়েবডেস্ক: গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। এই সুযোগেই কলকাতার উত্তরভাগে খাল পথে এসে নির্মীয়মাণ আবাসন প্রকল্পে দুঃসাহসিক ডাকাতি চালায় একদল দুষ্কৃতী। ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার ১৭ (রাত বারোটার পর হিসাবে ১৮ তারিখ) তারিখ মধ্যরাতে।
শুধু লুটপাটই নয়, আতঙ্ক ছড়াতে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলিও চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গুলি চলে প্রায় তিন রাউন্ড। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিরাট সাফল্য কলকাতা পুলিশের। পরে ঘটনার তদন্তের জন্য কলকাতা পুলিশ একটি সিট গঠন করে ডিসি নর্থ সায়ক দাসের নেতৃত্বে। পুলিশি তৎপরতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৯ জনকে। তাদের মধ্যে ৬ জনই নাবালক, লালবাজার পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ জুন কাশীপুর থানা এলাকায় ওসওয়াল রেসিডেনশিয়াল বিল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজার দেবাশিস নাথ একটি ডাকাতির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন গভীর রাতে খাল পথে এসে কলকাতার রুস্তমজি পারসি রোডে অবস্থিত নির্মীয়মাণ আবাসন প্রকল্প ‘ওসওয়াল অর্চার্ড অমৃতায়া’-তে ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা।
এরপর প্রকল্পের গায়ে বেড়া ভেঙে তারা বলপূর্বক ভিতরে ঢুকে পরে। শুরু হয় লুটপাট। অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল, টিএমটি স্টিল, লোহার রড, কংক্রিটের পাইপ এবং বৈদ্যুতিক কনডুইট পাইপসহ বিপুল পরিমাণ বহুমূল্য সব নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা।
আরও অভিযোগ, লুটের সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কর্মীদের কেবিন লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে গুলি চালায় দুষ্কৃতীয়া। এরপরই খাল পথে লুটের মাল নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে উত্তর বিভাগ। বিভিন্ন থানার অভিজ্ঞ অফিসারদের নিয়ে শুরু হয় জোরদার তদন্ত।
এরপর তদন্তকারী আধিকারিকরা তথ্য সংগ্রহ ও টানা অভিযানের জেরে ডাকাত দলের হদিশ পায়।
পুলিশের দাবি, গত রাতেই অভিযান চালিয়ে মোট ৯ জনকে প্রথমে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন নাবালক। পাশাপাশি লুট হওয়া সামগ্রীরও বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
লালবাজার পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্ত এখানেই শেষ নয়। এই ডাকাতচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কোথা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এল এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ছক কী ছিল, তা জানতে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে বলে জানা গিয়েছে।
খাস কলকাতায় এই পরিকল্পিত হানা, গুলির আতঙ্ক আর তাতে নাবালকদের জড়িত থাকার অভিযোগ ঘিরে বর্তমানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরজুড়ে।