• দুই যুবকের অশান্তি থামাতে যাওয়াই কাল হল, নির্মম পরিণতি ঘুগনি বিক্রেতা বৃদ্ধের
    News18 বাংলা | ২০ জুন ২০২৬
  • পুরোনো বিবাদের জেরে গ্রামের দুই যুবক মারামারি করছে দেখে সাদেক সেখ (৬২) এগিয়ে গিয়ে তা থামিয়ে দেন। আর তা থামাতে গিয়েই ঘটে গেল বিপত্তি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে কোপ মারলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হল সাদেক সেখ নামের ওই বৃদ্ধের। শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে সামশেরগঞ্জ থানার নিমতিতা পঞ্চায়েতের কামালপুর দুর্গাপুর আমবাগান এলাকায়। ঘটনার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

    অন্যদিকে, খুনের ওই খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে মদ্যপ অবস্থায় রহিম সেখের পুরনো বিবাদের জেরে সামসুদ্দিন সেখের সঙ্গে বিবাদ শুরু করে। পরে ওই বিবাদ থেকে মারপিট শুরু হয়ে যায় দু’জনের মধ্যে। তাদেরকে মারপিট করতে দেখে পেশায় ঘুগনি বিক্রেতা সাদেক শেখ ঝামেলা থামানোর চেষ্টা করেন এবং দু’জনকে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।

    এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রহিম সেখ। রহিম সেখ ঘর থেকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে আচমকা ওই গলায় কোপ মারলে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধ। ওই ঘটনা জানতে পেরে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন আমবাগানে। এমনকী তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। ওই ঘটনার খবর পেয়ে সামশেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরে রহিম এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তার খোঁজে পুলিশের তল্লাশি চলছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের পর দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের সদস্যদের হাতে। পেশায় ঘুগনি বিক্রেতা সাদেক সেখের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘুগনি বিক্রি করেই চলত সংসার। শুধুমাত্র বচসা থামাতে গিয়ে এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটবে তা আমরাও বুঝতে পারিনি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)