• গঙ্গার নীচ দিয়েই হাওড়ার আলমপুর থেকে কলকাতা, সুড়ঙ্গ পথ ঘিরে কী কী পরিকল্পনা? জানালেন মন্ত্রী
    News18 বাংলা | ২০ জুন ২০২৬
  • গঙ্গার নীচ দিয়ে মেট্রো চলার পর এবার হুগলি নদীর তলদেশে গাড়ি চলাচলের জন্য আন্ডারওয়াটার ট্যানেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যের প্রসার এবং পণ্য পরিবহণে গতি আনতেই এই  প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, কলকাতা থেকে হাওড়ার আলমপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আন্ডারওয়াটার ট্যানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই টানেলের সঙ্গে থাকবে এলিভেটেড করিডর, রেল উড়ালপুল এবং অ্যাপ্রোচ রোড। পাশাপাশি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। ভবিষ্যতে এই করিডরকে বারাণসী-কলকাতা অর্থনৈতিক করিডরের সঙ্গেও যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, কলকাতা ও হাওড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং গতিশীল করে তুলতেই এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আন্ডারওয়াটার মেট্রোর সাফল্যের পর এবার হুগলি নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণের ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সড়কে চাপ কমাতে শালিমার এর কাছে নতুন ফেরিঘাট তৈরির কথা জানান।

    এই ট্যানেল রোড নির্মাণ হলে পণ্য পরিবহণ অনেক সহজ হবে। বর্তমানে বিদ্যাসাগর সেতুর উপর যে চাপ রয়েছে, তা অনেকটাই কমবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে।

    উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হুগলি নদীর উপর আরও একটি সেতু তৈরির প্রস্তাব থাকলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিকল্পনার পরিবর্তে নদীর নীচ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত এবং সহজ হবে।

    জানা গিয়েছে, নদীগর্ভে এই ট্যানেল ও করিডর নির্মাণে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে তার সবচেয়ে বড় সুফল পাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর। বর্তমানে বন্দরে আসা-যাওয়া করা অধিকাংশ পণ্যবাহী ট্রাককে বিদ্যাসাগর সেতুর উপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে যানজট, সময় নষ্ট এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। নতুন ট্যানেল চালু হলে পণ্যবাহী গাড়িগুলি সরাসরি ডক এলাকায় পৌঁছতে পারবে, ফলে পরিবহণ খরচ যেমন কমবে, তেমনই সময়ও বাঁচবে।

    সরকারি মহলের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্ডারওয়াটার মেট্রোর পর এবার আন্ডারওয়াটার রোডের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহণ মানচিত্রে আরও একবার নজির গড়বে বাংলায়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)