• ঐতিহ্যের উপহারে বাংলা-অন্ধ্রের সেতুবন্ধন, চন্দ্রবাবুর পুত্রের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শুভেন্দুর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ জুন ২০২৬
  • অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর পুত্র নারা লোকেশের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এই বৈঠকের পর লোকেশের সম্মানে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই নেতার এই সৌজন্য সাক্ষাতে উঠে এল দুই রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বার্তা। শুভেন্দু ও লোকেশের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে অন্ধ্রের মন্ত্রীর হাতে দুটি বিশেষ স্মারকও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    উপহার হিসেবে নারা লোকেশকে দেওয়া হয় ‘ষড়ভুজ’ চৈতন্যদেবের একটি পটচিত্র এবং সূক্ষ্ম শোলাশিল্পে নির্মিত একটি নৌকার প্রতিরূপ। এই দুই শিল্পকর্মের মধ্যেই ধরা পড়েছে বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং লোকশিল্পের অনন্য পরিচয়।

    চৈতন্যদেবের পটচিত্রটি এঁকেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার নয়াগ্রামের বিশিষ্ট পটুয়া শিল্পী স্বর্ণলতা চিত্রকর। ভেষজ ও প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহারে তৈরি এই শিল্পকর্মে চৈতন্যদেবকে ‘ষড়ভুজ’ রূপে তুলে ধরা হয়েছে। উপরের দুই হাতে রামের ধনুক-তির, মাঝের দুই হাতে কৃষ্ণের মোহন বাঁশি এবং নিচের দুই হাতে রয়েছে সন্ন্যাসদণ্ড ও কমণ্ডলু। এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলা ও অন্ধ্রপ্রদেশের ভক্তি আন্দোলনের ঐতিহাসিক যোগসূত্রও প্রতিফলিত হয়েছে।

    অন্যদিকে, শোলাপিঠের নৌকাটি বাংলার প্রাচীন হস্তশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন। নিখুঁত কারুকার্যে নির্মিত এই শিল্পকর্ম শুধু গ্রামীণ শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয়ই বহন করে না, বরং দুই রাজ্যের বহু প্রাচীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্মৃতিও বহন করে। ইতিহাস বলছে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে তাম্রলিপ্ত বন্দরের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের মুসলিপত্তনম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। সেই ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবেই এই শোলার নৌকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন। তাঁদের অনুমান, সৌজন্য বৈঠকের পাশাপাশি এই উপহার বিনিময় দুই রাজ্যের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার বার্তাই বহন করেছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)