‘৫০০ বছর অপেক্ষা করেছেন, ১৫ দিন ধৈর্য ধরুন’, রাম মন্দিরে চুরি প্রসঙ্গে বার্তা যোগীর
প্রতিদিন | ২০ জুন ২০২৬
রাম মন্দির থেকে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এবার মুখ খুললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জানালেন, ‘আমরা ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছি। যদি কেউ দোষী হয় সে অবশ্যই শাস্তি পাবে।’ কারও প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা দিয়ে রাম ভক্তদের উদ্দেশে যোগীর বার্তা, ‘৫০০ বছর অপেক্ষা করেছেন। আর ১৫ দিন ধৈর্য ধরুন।’
শুক্রবার অযোধ্যার রুডৌলি বিধানসভা কেন্দ্রে এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাম মন্দিরে চুরির প্রসঙ্গ তোলেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, ”সব রামভক্তদের প্রতি আমার আবেদন অযোধ্যায় যে ঘটনা ঘটেছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ট্রাস্টের অনুরোধে আমরা সিট গঠন করে তদন্ত করছি। আসল সত্য অবশ্যই প্রকাশ্যে আসবে। আমি সব পক্ষকে বলব, এমন কোনও বক্তব্য বা টিপ্পনি করবেন না যা রামভক্তদের মনে আঘাত দেবে। কারও কাছে কোনও তথ্য থাকলে সিটকে দিন। রামভক্তদের কাছে আমার অনুরোধ, প্রভু রাম আমাদের মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছে। শেই শিক্ষায় আমরা ৫০০ বছর প্রভু রামের জন্মস্থান নেওয়ার জন্য সংঘর্ষ করেছি। ফলে ১৫ দিন আরও অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরুন। চিন্তা করবেন না।”
এর পাশাপাশি নাম না করে বিরোধীদের নিশানা যোগী (Yogi Adityanath) আরও বলেন, “অযোধ্যাকে বদনাম করা, রাম মন্দিরকে অপমান করে লোকজনের প্ররোচনায় পা দেবেন না। এরা কখনও চায় না অযোধ্যার সুনাম হোক। এরা চায় না অযোধ্যা সম্মান পাক। এরা অযোধ্যার জন্য কিছুই করেনি। এদের ক্ষমতা ছিল না। অযোধ্যায় দীর্ঘ বছর বিদ্যুৎ ছিল না। সংকীর্ণ গলিতে বন্ধ ছিল জায়গাটি। আজ এরা অযোধ্যাকে নিয়ে কথা বলছে। এদের ফাঁদে পা দেবেন না। এরা রামভক্তদের উপর গুলি চালিয়েছে। রামের নাম নিলে লাঠি চালাত। রামকে নিয়ে প্রশ্ন তুলত। ফলে এদের উপদেশ আমরা চাই না। সিট বসেছে। সব তথ্য সামনে আসবে। ফলে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও বয়ানবাজি করবেন না। তদন্তের পর কারও কোনও বক্তব্য থাকলে অবশ্যই সিট তার উত্তর দেবে। অপরাধী যেই হোক তাঁর নিস্তার নেই। যারা রামভক্তদের অপমান করে মাফিয়াদের কবরে গিয়ে কলমা পড়ে, তাদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ আমরা শুনব না।”
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের টাকা চুরির অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। সম্প্রতি বিষয়টি সামনে এনে অখিলেশ যাদব দাবি করেন, ‘বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখের খবর। রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা মন্দির ট্রাস্টের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অস্বস্তিকর। কেউই সামনে এসে এই ইস্যুতে মুখ খুলতে চাইছেন না।’ পাশাপাশি এই বিষয়ে আদালতের তত্ত্বাবধানে হস্তক্ষেপ দাবি করেন অখিলেশ। প্রাথমিকভাবে টাকাচুরির অভিযোগ নাকচ করে দেয় ট্রাস্ট। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশে পেয়েছে ট্রাস্টও। এবং ট্রাস্টের তরফেই যোগীর কাছে সিট গঠনের দাবিতে চিঠি দেওয়া হয়। ট্রাস্টের চিঠির পরই ৩ সদস্যের উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল গড়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। মন্দিরের দু’জন কর্মচারীকে অযোধ্যা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সিটের সদস্যরা। দুই কর্মচারীর কাছ থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনা দানা পাওয়া গিয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রের খবর।