দিকে দিকে জন বিস্ফোরণ। সরকারের পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ছে ক্ষোভ। গত ১৫ বছরের জর্জরিত বাংলার মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। ছোট-বড় নেতা, যে-ই হোক না কেন, দেখা পেলেই চলছে ডিম থেরাপি। কেউ ভয়ে হেলমেট পরে ডিম থেকে বাঁচছেন, কাউকে পুলিশের জালি গাড়িতে উঠে পালাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের উদ্দেশে আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে পুলিশের উপর আস্থা রেখে সংযমের বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর।
শুক্রবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুভেন্দু বলেন, “এই সরকারের আমলে দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধের অভিযোগ করে পুলিশের উপর আস্থা রাখুন। আজকেও একজন প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেপ্তার হয়েছেন। যৌথভাবে জড়ো হয়ে কারও বাড়ি যাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজনে সিআইডি সাহায্য নেওয়া হবে। এসটিএফের নতুন টিম বানানো হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবেই। কারও বাড়িতে বা কারও কাছে গিয়ে বিচার চাওয়ার দরকার নেই।”
সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, ‘শাসকের আইনের দিন শেষ, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী সরকার অন্যায় দেখলেই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমনকী ভোটের পর অশান্তিতে জড়িয়ে দলীয় কর্মীরাও ছাড় পাননি। ৫০-এর বেশি কর্মীকে শোকজ চিঠি পাঠিয়েছিল দল।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতিগ্রস্তদের একে একে গর্ত থেকে টেনে বের করছে পুলিশ। সংক্রমণের মতো বেড়েই চলেছে তৃণমূল নেতাদের শ্রীঘর যাত্রা। আইনি পথে শাস্তি হলেও দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দিকে দিকে জনতার স্বর্তঃস্ফুর্ত ক্ষোভ উপচে পড়ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনতাকে সংযমী থাকার বার্তা দিয়ে আসলে সরকারের ভাবমূর্তি ও রাজ্যের শান্তির বজায় রাখার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।