নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যুক্ত থাকা ৪৫ বছর বয়সী পরিচারিকাকে নৃশংস ভাবে খুন করল বাড়িরই মালিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ মণীশ গুপ্ত। মৃতার নাম মীনা। ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ এলাকার এক আবাসনে। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন বাড়ির ছাদে প্রথমে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মীনাকে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই রক্তমাখা একটি ক্রিকেট ব্যাট ও ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমদিকে নানা জল্পনা ছড়ালেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই হত্যার নেপথ্যে মূল কারণ পারিবারিক অশান্তি ও ব্যক্তিগত মানসিক দ্বন্দ্ব। পুলিশের দাবি, সম্প্রতি মীনাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ডঃ গুপ্ত ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। ডঃ গুপ্তের স্ত্রী, যিনি নিজেও একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক, মীনাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে ডঃ গুপ্তের মনে অসন্তোষ ও হীনম্মন্যতা তৈরি হয়েছিল, যা পরে ভয়াবহ পরিণতির দিকে গড়ায়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে ডঃ গুপ্ত অবসাদ ও অবসেসিভ-কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধও খেতেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রতিবেশী পুলিশকে ফোন করে জানান যে পাশের বাড়ির ছাদে এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মীনার নিথর দেহ উদ্ধার করে। সেই সময় ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন ডঃ গুপ্ত। পুলিশ সূত্রে দাবি, তিনি নিজেই আত্মসমর্পণের কথা জানান।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মীনার পরিবারে। তাঁর ছেলে রবিন বলেন, সকালে স্বাভাবিকভাবেই কাজে গিয়েছিলেন তাঁর মা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের কর্মস্থলে এমন পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মীনার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বক্তব্য, তিনি অত্যন্ত শান্ত ও দায়িত্বশীল স্বভাবের মানুষ ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর তাঁরা যথেষ্ট মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ডঃ গুপ্তকে তাঁরা বরাবরই ভদ্র ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবেই চিনতেন। তাঁর আচরণে কখনও এমন হিংস্র প্রবণতার ইঙ্গিত পাননি বলে দাবি তাঁদের।