Big Breaking: দলে ভাঙনের পরে এ বার চ্যালেঞ্জ দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ় করল পুলিশ। এর ফলে ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনওরকম লেনদেন করা সম্ভব হবে না। বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে আপাতত একটি টাকাও আর তোলা যাবে না। সম্প্রতি ওই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় করার আবেদন করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলেন তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস। সূত্রের খবর, এখন ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
তৃণমূলের বিধায়কদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি ভাবে লেনদেন হতে পারে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর ১০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই এই নিয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় চিঠি দিয়েছিলেন। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে যাতে কোনওরকম লেনদেন না হয়, তার জন্য পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। এরপরেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুলিশ শুক্রবার ফ্রিজ় করল এবং এই পদক্ষেপ কালীঘাটের জোড়াফুল নেতৃত্বকে আরও চাপে ফেলে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেছিলেন, ‘দুর্নীতি, কাটমানি, ডাকাতির টাকা যে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢোকেনি, তার কী নিশ্চয়তা আছে?’ ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিক কে বা কারা, তার কোনও উল্লেখ অবশ্য অভিযোগপত্রে করেননি বিদ্রোহী বিধায়করা। তবে কয়েক বছর আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তথ্য পেশ করা হয়েছিল, তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনটির মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে। অন্য দু’টি অ্যাকাউন্টের একটি দলের ত্রিপুরা শাখা এবং অন্যটি দলের গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত।
‘আসল তৃণমূল’ কারা— তা নিয়ে একদিকে যেমন টানাপড়েন চলছে, তেমনই অন্য দিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও টানাপড়েন শুরু হয়েছে। কিছু দিন আগে লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের অন্যতম সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এরপরে তৃণমূলের প্রতীক ও তহবিল কাদের দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই হতে পারে। লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদরা আপাতত এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। বিধানসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা অবশ্য জানিয়েছেন তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছিলেন সম্প্রতি। দলের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে অরূপ সেই চিঠি দিয়েছিলেন বলে সূত্রের দাবি। ৫ জুন সাংগঠনিক রদবদলে অরূপের বদলে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। কিন্তু সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কের নিয়ম মেনে এখনও তাঁকে ‘অথরাইজ়ড সিগনেটরি’ বা আর্থিক লেনদেনে সই করার অধিকারী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দল। ফলে ব্যাঙ্কের কাছে খাতায়কলমে কোষাধ্যক্ষ এখনও অরূপ। দল যখন কার্যত ভেঙে গিয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক শীর্ষকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তখন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁকে আইনি সমস্যায় ফেলতে পারে আন্দাজ করে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আর্জি জানিয়েছেন অরূপ।
মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের কথায়, ‘থানায় অভিযোগ করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। কিন্তু তার আগে যে দলের প্রতীকে তাঁরা জিতেছেন, সেই দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তো একবার কথা বলতে পারতেন।’