এই সময়, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো লোকসভার ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহে ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রবীণদের পাশাপাশি দেব, সায়নী ঘোষের মতো নবীন এমপি–রা তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’য় (এনসিপিআই)। এই সাংসদদের ‘ডিসকোয়ালিফাই’ করার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দাবি তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাৎপর্ব শেষে অভিষেকের দাবি, স্পিকার তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আইনমাফিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও এ নিয়ে স্পিকার নিজে কোনও মন্তব্য করেননি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন তৃণমূল বিধায়কও বিদ্রোহী হয়েছেন। তবে তাঁরা অন্য দলে যোগ দেননি। বরং কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে তাঁরাই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। লোকসভার চিত্রটা অবশ্য আলাদা। ইতিমধ্যে তৃণমূলের প্রতীক, তহবিল ইত্যাদি নিয়ে তাঁরাও আইনি পথে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় বিদ্রোহীদের হাত যাতে আরও শক্ত না–হয়, সেই চেষ্টা করতেই শুক্রবার সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এখনও কালীঘাটের ফোল্ডে থাকা সাংসদ সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র।
অভিষেকদের যুক্তি, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লোকসভা ভোটে জয়ী হওয়ার পরে অন্য দলে যোগদানকারী এই ২০ জন এমপি সাংবিধানিক ভাবে আর সাংসদ থাকার যোগ্য নন৷ তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ করা হোক৷ যদিও কালীঘাট নেতৃত্বের এই যুক্তিকে পাত্তাই দিতে রাজি নন এই ২০ সাংসদ। কাকলি, শতাব্দী রায়–সহ তৃণমূলত্যাগী এই সাংসদরা একাধিকবার বলেছেন, যে হেতু তাঁদের সঙ্গেই সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপি সহমত, তাই অন্য কেউ কী বলছেন, তাতে কিছু যায় আসে না। এ দিন কল্যাণ ও মহুয়াকে দিল্লিতে এক গাড়ি থেকে নামার ভিডিয়ো পোস্ট করে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ কটাক্ষ ছুড়ে দেন। কয়েক মাস আগে পর্যম্ত কল্যাণ ও মহুয়ার মধ্যে প্রকাশ্যে আকচা আকচির প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি। সেই পোস্টের ভিত্তিতে আবার কাকলি কারও নাম না–করে তুলেছেন সংসদে ‘ক্যাশ ফর কোয়েশ্চেন’ বিতর্ক। যার ভিত্তিতে সে সময়ে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজও হয়েছিল। সরাসরি সে কথা না–বলে কাকলির পোস্ট, ‘জাতীয় স্বার্থ বিপণ্ণ করে গোপন তথ্য বিক্রি করায় তাঁর বহিষ্কার এখনও কেউ ভোলেননি।’
এ দিন অভিষেকের যুক্তি হলো, ‘সংবিধানের দশম তফসিলের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনও জনপ্রতিনিধি যদি স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তা হলে তাঁর অযোগ্য ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। তাঁরা নিজেরাই দাবি করছেন, যে তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা আর তৃণমূলের সদস্য নন। ২৮ বা ২৯ জন সাংসদের মধ্যে সবাই দলবদল করলেও সেটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে মার্জার হয়ে যায় না।’ তাঁর অভিযোগ, বিজেপির মধ্যস্থতাতেই টাকার বিনিময়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে ২০ জন সাংসদ এই পদক্ষেপ করেছেন। যদিও কাকলির পাল্টা তোপ, ‘আমি শুনলাম দিল্লিতে নাকি বলা হয়েছে যে, আমরা টাকার বিনিময়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছি। এটা পুরোপুরি মিথ্যে। এক টাকারও লেনদেন হয়নি। উনি (অভিষেক) এও বলেছেন, উনি যদি ভুল বলে থাকেন, তা হলে যেন আমরা মামলা করি। আমাদের কী দায় পড়েছে, ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করার!’