এই সময়: পুলিশ হোন বা যে কোনও সরকারি কর্মী— তাঁদের উপরে হামলা হলে কিংবা সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হবে— এ কথা একাধিকবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু কথার কথা নয়, এ বার এ নিয়ে নতুন আইন আনছে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার। আসন্ন বাজেট অধিবেশনের মধ্যেই আনা হতে পারে সেই বিল। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই আইনে শাস্তির যে সংস্থান থাকছে, তাতে এই ধরনের অপরাধ করার আগে যে কেউ পাঁচ বার ভাববে। এ দিন নবান্নে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, ‘বিল এলেই আপনারা জেনে যাবেন। কেউ আর এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবে না।’ সরকারি কর্মীদের উপরে হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণের বিধি আইনে থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দিন তিনেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি–সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরদিন ফলতায় গিয়ে শুভেন্দু পুলিশকে নির্দেশ দেন, এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে পদক্ষেপ করতে হবে। এ দিনও সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর কথায়, ‘ফলতায় একটা ক্রিমিনাল মাফিয়াকে মুক্ত করার জন্য একটা ঘটনা ঘটেছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি মামলা হয়েছে। যে হেতু পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে হামলা হয়েছিল, তাই ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় রাষ্ট্রবিরোধী যে সব ধারা আছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সেই ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে।’ যদিও হামলাকারীরা সফল হয়নি বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী খুব শক্ত হাতে ঘটনার মোকাবিলা করেছে।’
তাঁর সংযোজন, ‘যে তিনটি ধারা তাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাতে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই শুধু নয়, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকার ক্ষতিপূরণ আদায় করবে।’ তিনি জানান, ওই ঘটনায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩ জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন, আর ১২ জন জেল হেফাজতে আছেন। যাঁদেরকে টিভিতে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা অন্য কোনও ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা নয়, এই ধরনের ঘটনা যাতে কেউ না ঘটায়, তার জন্য কঠোর আইন আনছি আমরা। আগামী বাজেট অধিবেশনেই আপনারা তা জানতে পারবেন। ওই আইনে যে শাস্তির সংস্থান থাকবে, তাতে কেউ ওই ধরনের অপরাধ করতে গেলে অন্তত পাঁচ বার ভাববে।’ সরকারি সম্পত্তি তো বটেই, বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টেও ওই ধারা প্রয়োগ করা যাবে বলে সূত্রের খবর।
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাওড়ার বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে–কে খুনের ঘটনায় যাতে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসির সাজা হয়, সেই চেষ্টাই করবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, ওই ঘটনার তদন্তভার জেলা পুলিশের হাত থেকে ইতিমধ্যে সিআইডি-কে দেওয়া হয়েছে। নিহত কর্মীর পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের পক্ষে এ দিন চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা তাঁর পরিবারকে সাহায্য করা হবে। এ ছাড়াও মৃতের স্ত্রী চাইলে রাজ্য সরকার তাঁর চাকরির ব্যবস্থাও করে দেবে বলে জানান শুভেন্দু।
স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূলের মফিজুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি প্রকল্প থেকে ‘কাটমানি’ নিয়ে গরিব মানুষকে বঞ্চিত করার ভূরি ভূরি অভিযোগ ছিল। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ তাঁর বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের পুলিশকে একটু সময় দেওয়া উচিত ছিল। মফিজুল পাড়া-প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজনদের নিয়ে টাকা ফেরত চাইতে আসা লোকেদের উপরে সশস্ত্র হামলা চালান। এই হামলায় প্রশান্ত দে-র মৃত্যু হয়।’ শুভেন্দু জানান, প্রশান্তর স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্ত-সহ আট জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত অভিযুক্তদের যাতে ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা ফাঁসি হয়, আদালতে সেই চেষ্টাই করবে রাজ্য সরকার।