• চাটার্ড বিমানে যাতায়াত, দিল্লি যেতে আসতেই এক দিনে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ অভিষেকের!
    এই সময় | ২০ জুন ২০২৬
  • এই সময়: এমব্রায়ার ইআরজে বিমান। ঘণ্টায় ভাড়া সাত লক্ষ টাকার কাছাকাছি!

    সেই বিমানে কলকাতা–দিল্লি যাতায়াত করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন নয়, বহুদিন ধরে। শুক্রবার দুপুরেও ওই বিমানে শহর থেকে দিল্লি গিয়েছেন। ফিরেছেন সন্ধেয়। ১৩ আসনের বিমানে হাতেগোনা দু’তিন জন। যাতায়াতে পাঁচ ঘণ্টার ভাড়া ৩৫ লক্ষ টাকার আশপাশে! সূত্রের দাবি, সেই টাকা খরচ হচ্ছে দলীয় তহবিল থেকেই।

    তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক যখন চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত করেছেন, তখন প্রশ্ন ওঠেনি। অথবা, মনে প্রশ্ন উঠলেও তা তোলার ‘সাহস’ দেখাননি কেউই। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজ্যজুড়ে দলের একের পর এক নেতা–কর্মী দল ছেড়ে দিচ্ছেন। দলের মধ্যে ভাঙন স্পষ্ট। নিচুতলার কর্মীরা মামলায় জেরবার হচ্ছেন। সেই মামলা চালানোর খরচ টানা যাচ্ছে না। এই আবহে প্রথম সারির এক নেতার একদিন দিল্লি যাতায়াতের জন্য দলের তহবিল থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন তুলেছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষই। এ নিয়ে শুক্রবার দিল্লিতে অভিষেককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘..... তাঁরা (যাঁরা অভিযোগ তুলছেন) যদি লিখিত দিয়ে দেয় (অভিযোগ) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকনমি ক্লাসে যাবে। আমার পাশের সিটে যদি কেউ বসে, যেটা আমার সঙ্গে অনেক বার হয়েছে। আমার লিগ্যাল ওপিনিয়ন নিয়ে এটা (ভাড়া করা বিমানে যাতায়াত) করা। কুণাল ঘোষ আমার সহকর্মী। সে যদি আমার বিরুদ্ধে কিছু বলে, আমি তার বিরুদ্ধে বলব না।’

    দলের নেতাদের বক্তব্য, অভিষেকের দাবি অনুযায়ী, ইকনমি শ্রেণিতে যাতায়াতের সময়ে অনেক বার তাঁর পাশে অচেনা লোক বসেছেন বলে তাঁকে ও ভাবে যাতায়াত করতে বারণ করেছেন আইনজীবীরা। শুক্রবার তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের লড়াই, চার্টার্ড ফ্লাইট বিরোধী লড়াই। দলের ৫০০–র বেশি কর্মী আক্রান্ত। মামলা লড়ার খরচ নেই। কেউ গয়না বন্ধক রেখে মামলা চালাচ্ছেন।’

    দলের নেতা–নেত্রীদের দাবি, এখন একদিন আগেও কলকাতা–দিল্লির ফ্লাইট টিকিট ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। যাতায়াতে ২০ হাজার টাকা। একটু আরাম আয়েশ করে যেতে চাইলে বিজ়নেস ক্লাসে যাওয়া–আসার খরচ ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। তার জায়গায় ৩৫ লক্ষ!

    তৃণমূলের নেতা–নেত্রীদের বড় অংশের দাবি, এতদিনের স্ট্রাগল এবং বয়সের কথা বিবেচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি চার্টার্ড ফ্লাইটে যাতায়াত করতেন, তা হলেও কিছু বলার ছিল না। কিন্তু, ৩৮ বছরের তরতাজা যুবক অভিষেক তো চাইলেই বিজ়নেস ক্লাসে দিল্লি যেতে পারেন। বিশেষত যখন দল কার্যত কোণঠাসা। প্রশ্ন উঠেছে, এমন তো নয়, তাঁকে প্রত্যন্ত কোনও শহরে দলের জরুরি কাজে যেতে হচ্ছে। যেখানে কলকাতা থেকে ডিরেক্ট ফ্লাইট নেই। সারা দিনে কলকাতা থেকে দিল্লির অনেক ফ্লাইট। কার্যত বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট কেটে ফ্লাইট ধরা যায়। তা না করে, যে ভাবে সাধারণ মানুষ গাড়ি ভাড়া করেন, সে ভাবে বিমান ভাড়া করে দিল্লি যাচ্ছেন তিনি।

    প্রশ্ন উঠেছে, কী এমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে অভিষেকের, যার জন্য তাঁকে বিমান ভাড়া করে ঘুরতে হবে? তিনি বিদেশে তো সাধারণ যাত্রিবিমানেই যান। সম্ভবত বিজ়নেস বা ফার্স্ট ক্লাসে। তখন তো বিমান ভাড়া করেন না?

    কুণাল বলছেন, ‘এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জেরবার হচ্ছি আমরা। দলের যা হাল সেই অবস্থায় বিমান ভাড়ার পিছনে এত টাকা খরচ তো অপচয়। তার পক্ষে তো কোনও যুক্তিই দেওয়া সম্ভব নয়। খুব দৃষ্টিকটু লাগছে। জনগণের সেন্টিমেন্টের কথাও তো আমাদের ভাবতে হচ্ছে। দলের লোকেরা বলছেন, (অভিষেককে ভাড়া করা বিমান ব্যবহার করতে) বারণ করছেন না কেন? কাকে বারণ করব? সে কি বারণ শোনার লোক?’

  • Link to this news (এই সময়)