আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার গ্রেপ্তার ফলতার 'পুষ্পা' ওরফে জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় এই গ্রেপ্তারি। শনিবার সকালে সারিনা বিবিকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে ফলতা থানার পুলিশ। জাহাঙ্গিরের মুক্তির দাবিতে দু'দিন আগেই ফলতা থানা এলাকায় বিক্ষোভ হয়। সেই বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয়েছিল। অভিযোগ, ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন সারিনা বিবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন থানা চত্বরে বিক্ষোভের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৮ জুন ভারত থেকে পালানোর চেষ্টার সময় নেপাল সীমান্ত থেকে জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই থেকে পুলিশ হেফাজতেই জাহাঙ্গির। এরপর তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে চলে বিক্ষোভ। পুলিশের ওপর হামলাও হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী সারিনার খানের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই পদক্ষেপ করল পুলিশ।
সম্প্রতি ফলতায় এক সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার (যার মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত) হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং আইনের শাসন বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, থানা আক্রমণের পরিকল্পনাটি জাহাঙ্গির খানের স্ত্রীই করেছিলেন। কারণ কোমরে দড়ি বেঁধে তাঁর স্বামীকে যেভাবে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়েছিল, তাতে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর একাধিকবার জাহাঙ্গির খানকে ফলতার রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহাঙ্গির খান ফলতা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। উল্লেখ্য, ফলতা এলাকাটি অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র 'ডায়মন্ড হারবার'-এর অন্তর্গত।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মার সঙ্গে প্রকাশ্যে বিবাদের জেরে জাহাঙ্গির সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের জেরে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের সময় ফলতায় ভোট বাতিল করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ফলতা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির খান।
তবে এক নাটকীয় মোড় দেখা যায় যখন (তেলুগু অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমার চরিত্রের অনুকরণে নিজেকে স্থানীয় 'পুষ্পা' বলে দাবি করা) জাহাঙ্গির খান পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিজেপি রেকর্ড ব্যবধানে আসনটি জিতে নেয়। হুমকি ও নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে জাহাঙ্গির বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার নজরে ছিলেন।