• পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল জয় কামদারের, দাবি ইডির
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ জুন ২০২৬
  • জমি দখল ও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য তুলে ধরেছে ইডি। সংস্থার দাবি, জয় শুধু অভিযুক্ত শান্তনু সিংহ বিশ্বাস বা সোনা পাপ্পুর সঙ্গেই নয়, পুলিশ প্রশাসন, আমলা এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে নগর দায়রা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে ইডি।

    তদন্তে ইডির দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৪৭.৮৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন জয়। তাঁর মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পুলিশের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। এমনকি পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটাতে পারতেন বলে একটি ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন পুলিশকর্মী তাঁকে ‘লর্ড’ ও ‘বস’ বলেও সম্বোধন করতেন।

    ইডির দাবি, এক পুলিশ আধিকারিক ওসি পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর জয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া জয়ের বাড়ির কালীপুজোয় বহু পুলিশকর্তা, আমলা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে তদন্তে। দীপাবলিতে অতিথিদের রুপোর বার উপহার দেওয়া হত বলেও অভিযোগ।

    দুই ব্যবসায়ীও ইডির কাছে অভিযোগ করেছেন যে, জয় পুলিশের নাম ভাঙিয়ে তাঁদের ভয় দেখাতেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিতেন। তাঁদের দাবি, থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ হয়নি। বরং পরে তাঁদের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

    যদিও জয় কামদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে শুধুমাত্র পরিচিতির সম্পর্ক ছিল। তবে ইডির মতে, তাঁর ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন পুলিশি নথি ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের যোগাযোগের তথ্য তাঁর প্রভাবশালী অবস্থানেরই প্রমাণ। এখনও তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)